নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ১৩:১০

আমি ৮৪০ কোটি টাকা ঋণ নেই নি, অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: খন্দকার মুক্তাদীর

ব্যাংকের কাছে ৮৪০ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরের। এমন তথ্য ছড়িয়ে এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির অনুসারীরা ঋণলোপিকে ভোট না দেওয়ার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ইস্যুতে ভোটের মাঠ সরগরম।

তবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর জানিয়েছে তিনি ব্যাংক থেকে ৮৪০ কোটি টাকা ঋণ নেননি। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মুক্তাদীরের মতে, যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে ‘এদের কাজই অপপ্রচার করা’।

মঙ্গলবার একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে এ প্রসঙ্গে খন্দকার মুক্তাদীর বলেন, ‘ যেভাব তারা লিখেন, তাতে মনে হয় আমি ব্যাংকে গিয়ে ৮৪০ কোটি টাকা সুটেকেসে ভরে নিয়ে এসেছি। মোটেই সেরকম নয়।

তিনি বলেন, আমার একাধিক প্রতিষ্ঠান। সেগুলোর জন্য বিভিন্ন সময় ঋণ নিয়েছি। একটা প্রতিষ্ঠান শুরু করেছি ২০০৪ সেলে। ২০০৫ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য জন্য ঋণ নেই। সেগুলো পরিশোধ করে আবার ২০০৮ সালে এসে আবার ঋণ নেই প্রতিষ্ঠান বর্ধিত করার জন্য। একটা প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের পর ওই ব্যাংক আগ্রহী হয় আমার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার জন। ঋণ পরিশোধে আমার পারফারম্যান্স ভালা হওয়ার কারণেই তারা এই আগ্রহ দেখায়।

মুক্তাদীর বলেন, আমাকে চারআনা পয়সাও কেউ ক্যাশ দেয় নি। ব্যাংক যন্ত্রপাতি বা কাঁচামালের মূল্য ডলারে পরিশোধ করেছে। ক্যাশ টাকার কোন লেনদেন হয়নি।আর আমি ৮৪০ কোটি টাকা ঋণ নেইনি। আমি মূল যে ঋণ নিয়েছি সেটা ৩০০ কোটি টাকার কম। ২৮০/২৯০ কোটি টাকার মতো। আমি যে টাকা পরিশোধ করেছি সেটা তার থেকে বেশি। ৩০০ কোটি টাকার উপরে পরিশোধ করেছি। এখন যে ৮০০ কোটি টাকা জমেছে সেটা সুদে জমেছে।

মুক্তাদীর বলেন, আমাকে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে দিলে এই টাকাও জমতো না। কিন্তু সরকারের আমলে আমাকে ব্যবসা করতে দেওয়া হয়নি। আমার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিলো। রাজনীতি ছাড়তে বা দল ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়েছে। নানা চাপ এসেছে তবু আমি দল ছাড়িনি। রাজনীতি ছাড়িনি। অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি নিয়েছি। এছাড়া সরকার চাহিদামাফিক গ্যাসসিরবরাহ করতে না পারায় আমি সক্ষমতা মতো উৎপাদন করতে পারিনি। এমক তারণে এই টাকা জমেছে।

এই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা তার প্রতিষ্ঠানের আছে জানিয়ে মুক্তাদীর বলেন, আমি আমার প্রতিষ্ঠান যদি স্বাভাবিক ভাবে চালাই এই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আমার আছে। এমনকি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিলেও ঋণ সুদ করেও কিছু টাকা আমার হাতে থাকবে।

জামায়াত ইসলামের নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমি যেই সময়ে আমার নিজের উপর আঘাত নিয়েছি, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, একই সময়ে আজকে যারা আমার প্রতিদ্বন্দ্বি, যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা আওয়ামী লীগের মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সাহেব, বদরউদ্দিন কামরান সাহেবের সাথে আরামে ব্যবসা করেছেন। যখন তাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলানো হয়েছ্ত, তখনও তারা মিলেমিশে ব্যবসা করেছেন।  ফলে আমি তাদের ভন্ডামি কখনো ভালো ফল দেয় না। কারণ জনগন বোকা না। জনগন সচেতন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত