১৫ জুন, ২০১৫ ১৩:৩৭
বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক ইদ্রিস আলী জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁর দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার ইদ্রিসকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ সোমবার তাঁকে স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এই তথ্য জানিয়ে বলেছে, ইদ্রিস আলী প্রথমে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার ব্যাপারটি অস্বীকার করেন। পরে বলেন যে তিনি হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে যান। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় আলোকচিত্র সাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে গ্রেপ্তারের পর গত সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী সিলেটের আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার রাতেই সিলেট মহানগর পুলিশের একটি গাড়িতে ইদ্রিসকে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আনা হয়। এখানে গতকাল বিকেল পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিআইডির কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মির্জা আবদুল্লাহেল বাকি বলেন, 'সোমবার তাঁকে সিলেটের আদালতে হাজির করা হবে। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। এগুলোর সূত্র ধরে আমরা তদন্ত করছি।'
সিআইডি সূত্র জানায়, ইদ্রিস দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি তুলেছেন। প্রথমে ভয়ে তা স্বীকার করেননি। সিলেটের দৈনিক 'সবুজ সিলেট'-এ অনন্ত বিজয়ের একটি ছবি ছাপা হয়, যার ক্যাপশনে লেখা ছিল 'ফেসবুক থেকে সংগৃহীত'। পরে গোয়েন্দারা ফেসবুকে ছবিটির কোন হদিস না পাওয়ায় ইদ্রিসকে সন্দেহ করেন। এ ব্যাপারে ইদ্রিসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে যাননি বলে দাবি করেন। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছবির ব্যাপারেও কিছু তথ্য দিয়েছেন ইদ্রিস। সেসব তথ্যের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তদন্ত চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে সকালে সিলেট নগরের সুবিদবাজারের বনকলাপাড়ায় পুকুরের পাশে চার দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যা করে পরে টুইটার বার্তায় এই হত্যার দায় স্বীকার করে নেয় সম্প্রতি নিষিদ্ধ হওয়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামের জঙ্গি সংগঠকন। এ ঘটনায় সিলেট বিমানবন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। এখন পর্যন্ত ইদ্রিস আলীই এই চাঞ্চল্যকর খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি।
আপনার মন্তব্য