সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

১৬ জুন, ২০১৫ ০০:৫২

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সিলেট বিভাগীয় উপ পরিচালক তাহমিনা বেগম তদন্ত কাজ করেন। বিকেল ৪ টা থেকে টানা ২ ঘন্টা তদন্তকালে তার সাথে ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলী, সিলেট সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাস। এসময় অভিযোগে উল্লেখিত বদলী বানিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে একাধিক সাক্ষীর মৌখিক ও লিখিত সাক্ষ্য গ্রহন করেন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক চলতি বছরে বিভিন্ন শিক্ষকদের বদলী সংক্রান্ত ব্যাপারে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বদলি দিয়েছেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারসহ সিলেট বিভাগীয় উপ পরিচালক বরাবরে একাধিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটিতে উল্লেখ করা হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারী ধল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা প্রতিভা রানী দাস , উত্তর চানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্তঃ বিদ্যালয় বদলির জন্য দিরাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। এরপর শিক্ষা কমকর্তা আব্দুর রাজ্জাক প্রতিভা রানীর স্বামী কে অফিসে ডেকে নিয়ে বদলির জন্য দেড় লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। কিন্তু এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় প্রতিভা রানীর পরিবর্তে তার জুনিয়র একজন শিক্ষককে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে উত্তর চানঁপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। ২৯ মার্চ প্রতিভা রানীর স্বামী বদলির নীতিমালা লঙ্গন পূর্বক বদলির প্রস্তাব প্রেরণের অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন। প্রতিভা রানীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল সিলেট বিভাগীয় উপ পরিচালক তাহমিনা বেগম তদন্তে আসেন । উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের ব্যাখ্যা চান।এসময় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তদন্তকালে অভিযোগের অন্যতম স্বাক্ষী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আছাব উদ্দিন সর্দার বলেন- প্রতিভা রাণীর বদলীর বিষয়ে আমি দুই দিন শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে অফিসে এসে কথা বলেছি, একদিন তিনি আমার বাসায় গিয়ে আমাকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে বদলি বিষয়ে সিদ্বান্ত নেওয়ার কথা বলেন, কিন্তু নিয়ম ভেঙ্গে অন্য আরেকজনকে নিয়োগ দিয়ে দেন ।

অভিযোগের তদন্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট বিভাগীয় উপ পরিচালক তাহমিনা বেগম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কাজ চলছে স্বাক্ষী প্রমানেরে ভিত্তিতে প্রমানিত হলে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য একই বিষয়ে গত সপ্তাহে তদন্তে আসেন সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এম.ডি আল-আমীন ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত