উজ্জ্বল ধর

১৬ জুন, ২০১৫ ২০:২৬

শুরু হচ্ছে নবগঠিত ওসমানীনগর উপজেলার কার্যক্রম

ভাড়া নেওয়া হয়েছে কার্যালয়, শিগগির প্রশাসনিক কর্মকর্তার যোগদান

দীর্ঘ প্রত্যাশা আর প্রতিশ্রুতির সিঁড়ি বেয়ে শিগগির শুরু হচ্ছে সিলেটের নবগঠিত ওসমানীনগর উপজেলার কার্যক্রম। সে লক্ষে ইতোমধ্যে ওসমানীনগর থানা সংলগ্ন একটি ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ভবন পরিদর্শন করে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে আওয়ামীলীগ সরকারের ওসমানীনগর উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘ ১৬ বছর পর আলোর মুখ দেখবে।  

গত বছরের ২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে প্রশাসনিক পুণঃবিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) বৈঠকে ওসমানীনগর থানাকে ওসমানীনগর উপজেলা ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হচ্ছে ওসমানীনগর উপজেলার কার্যক্রম।  

বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের সাথে দূরত্বজনিত সমস্যার কারণে পশ্চিমাংশের ৮টি ইউনিয়নের লোকজন ১৯৮৪ সাল থেকে আলাদা উপজেলা গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলো। ১৯৮৫ সালে থানা ও জেলা বিভক্তিকরন কমিটির পৃথক শুনানি ও দাবির সঙ্গে ঐক্যমত পোষন করে বালাগঞ্জে পৃথক আরেকটি থানা প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। তারপর অজ্ঞাতকারণে এ সুপারিশ আলোর মুখ দেখেনি।

১৯৯৯ সালের ২২ জুলাই তৎকালিন জাতিয় সংসদের স্পীকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী তাজপুরে এক অনুষ্ঠানে বালাগঞ্জের পশ্চিমাংশের ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম.এ. জি. ওসমানীর নামে পৃথক থানা ও পৌরসভা গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন আগামীতে থানাকে উপজেলায় রূপান্তরিত করা হবে।

কিন্তু থানা ভবনের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী স্পষ্ট দুভাগ হয়ে পড়লে থানা কার্যক্রম শুরুতে ভাটা পড়ে। অবশেষে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় গোয়ালা বাজার ও তাজপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্ত্তী ইলাশপুর নামক স্থানে থানা ভবন স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

২০০১ সালের ২২শে মার্চ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ নাসিম আনুষ্ঠানিক ভাবে ওসমানী নগর থানার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী সভায় তিনিও এ থানাকে উপজেলায় পরিণত করার ঘোষণা দেন।

কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে উপজেলা গঠনের কার্যক্রম ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ২৯শে জানুয়ারী প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাকে উপজেলায় রূপান্তরিত করা হয়। ওসমানীনগর উপজেলা ঘোষণার দাবি উপেক্ষিতই থেকে যায়।

সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওসমানীনগরকে উপজেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব সমর্থন করেন। নির্বাচনে তিনি সিলেট-২ আসনের এমপি নির্বাচিত হলে জনমনে আশার সঞ্চার হয়। নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি এ সরকারের আমলেই ওসমানীনগর উপজেলা গঠনের প্রতিশ্রুতি পূণঃবার ব্যক্ত করেন। নবগঠিত ওসমানীনগর উপজেলার ইউনিয়ন গুলো হচ্ছে উমরপুর, সাদীপুর, পশ্চিম পৈলনপুর, বুরুঙ্গা, গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর ও উসমানপুর।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, ওসমানীনগর উপজেলা কার্যক্রম শুরুর সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই অস্থায়ী ভাবে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।

সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, মহান রাব্বুল আলামিনের রহমতে আমার নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমি দেশরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওসমানীনগরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। ওসমানীনগর উপজেলার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকা এবং সিলেট থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপজেলা কার্যালয় পরিদর্শন করে গেছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই যাত্রা শুরু করবে নবগঠিত ওসমানীনগর উপজেলা।

এক নজরে ওসমানীনগর উপজেলা

আয়তন ৮৪.৮১ কিলোমিটার
গ্রাম    ২৮৬টি
ইউনিয়ন    ৮টি
জনসংখ্যা    ১,৭৭,৩৬৬ জন (প্রায়)
পুরুষ ৯৪,৮০৫জন
 মহিলা    ৮৩,৫৬১জন
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৮টি
পুলিশ ষ্টেশন    ১টি
হাট বাজার    ২০টি
ব্যাংক    ২৪টি
ফায়ার ষ্টেশন    ১টি
গণপাঠাগার    ৩টি
মসজিদ ৫৫টি
মন্দির ৯টি
উচ্চ বিদ্যালয়    ১৫টি
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়   ১টি
মাদ্রাসা ১৮টি
মহিলা মাদ্রাসা ১টি
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়    ৮৭টি
বেসরকারী প্রাথঃ বিদ্যালয়    ১৪টি
কলেজ ৩টি
মহিলা কলেজ ১টি
হিন্দু ধর্মীয় টোল ৭টি
শিক্ষার হার ৪৭.১০%

আপনার মন্তব্য

আলোচিত