সিলেটটুডে ডেস্ক

২৬ নভেম্বর, ২০২২ ১৪:০৩

করোনাভাইরাস: চীনে ফের দৈনিক শনাক্তের রেকর্ড

টানা তৃতীয় দিনের মতো দৈনিক করোনা ভাইরানের আক্রান্ত রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে চীনে। আজ শনিবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, গতকাল ২৫ নভেম্বর, শুক্রবার চীনে ৩৫ হাজার ১৮৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

আগের দিন বৃহস্পতিবার ৩২ হাজার ৬৯৫ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। তার আগের দিন বুধবার ৩১ হাজার ৪৪৪ জনের দেহে অত্যন্ত সংক্রামক এ ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল।

বুধ, বৃহস্পতি এবং শুক্রবার এই তিন দিনের প্রতিদিনই গত প্রায় তিন বছরের পুরো করোনা মহামারিতে একদিনে সর্বোচ্চ দৈনিক করোনা ভাইরাসের রেকর্ড সংক্রমণ হয়েছে চীনে।

শুক্রবার যাদের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের ৩৪৭৪ জনের মধ্যে রোগের উপসর্গ আছে, কিন্তু বাকি ৩১৭০৯ জন উপসর্গহীন। চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমিতদের এই দুই ক্যাটাগরিতে হিসাব করা হয়।

শুক্রবার বিদেশ থেকে আগত সংক্রমিতদের বাদ দিয়ে স্থানীয়ভাবে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৪৯০৯ জন। এদের মধ্যে ৩৪০৫ জনের রোগ লক্ষণ আছে আর বাকিরা উপসর্গহীন।

কোভিড-১৯ প্রথমে প্রাদুর্ভাব হিসেবে শুরু হলেও পরে মহামারী হয়ে ওঠা রোগটিতে শুক্রবার পর্যন্ত চীনে মৃতের সংখ্যা ৫২৩২ জন ছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির মহানগরীগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গুয়াংঝু এবং দক্ষিণপশ্চিমের চংশিংয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

তিন কোটি ২০ লাখ বাসিন্দার শহর চংশিংয়ে শুক্রবার স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ৭৭২১ জন শনাক্ত হয়; এ সংখ্যা পূর্ববর্তী দিনের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।

প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ বাসিন্দার শহর গুয়াংঝুতে এ দিন স্থানীয়ভাবে ৭৪১৯ জন শনাক্ত হয়। পূর্ববর্তী দিনের চেয়ে এ সংখ্যা কিছুটা কম।

রাজধানী বেইজিংয়ে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিতের সংখ্যা শুক্রবার ৫৮ শতাংশ বেড়ে ২৫৯৫ জন হয়েছে. শনিবার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা পরিসংখ্যানে এমনটি দেখা গেছে।

চীনের প্রায় সবগুলো প্রদেশে কোভিড সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। শুক্রবার হেবেই, সিচুয়ান, শানশি ও কিংহাই প্রদেশের প্রত্যেকটিতে এক হাজারেরও বেশি নতুন সংক্রমণ নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

১৪০ কোটি মানুষের দেশ হিসেবে চীনে দৈনিক আক্রান্তের এই সংখ্যা অবশ্য খুব বেশি নয়। কিন্তু দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের কঠোর ‘জিরো-কোভিড’ নীতি সত্বেও এই নগন্য সংখ্যাটিই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই নীতির আওতায় কোনো শহরে মাত্র কয়েকজন করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হলে গোটা শহরটিতেই লকডাউন জারি করা হচ্ছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বিশ্বের প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটিও ঘটেছিল চীনে।

তারপর খুবই দ্রুতগতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এরপর ওই বছরের ১১ মার্চ করোনাকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও।

মহামারির শুরু দিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, ব্যাপক পরীক্ষা, ভ্রমণ বিধিনিষেধ, করোনা টিকা ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করাসহ কঠোর সব করোনা বিধি চালু করে। এমনকি চলতি বছরের শুরু থেকে বিশ্বের প্রায় সব দেশ কঠোর করোনা বিধি থেকে সরে এলেও চীন এখনও সেসব জারি রেখেছে।

এদিকে সরকারের ‘জিরো কোভিড’ নীতির জেরে গত প্রায় তিন বছর যাবৎ চীনের জনগণ একদিকে যেমন স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে দিনের পর দিন লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনের ফলে কর্মসংস্থান হারিয়ে বহু মানুষ চরম আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি চীনের বিভিন্ন প্রদেশ ও শহরে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। এর ফলে সম্প্রতি কঠোর কোভিড বিধি-নিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই ফের এমন ব্যাপকহারে করোনার সংক্রমণের ফলে দেশটির মানুষের জীবন ফের দুঃসহ হয়ে পড়তে পারে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত