ফারজানা মৃদুলা

২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৩:০৭

চাঁদাবাজি: সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

এক সময় ‘চাঁদাবাজি’ শব্দটি ভয় জাগাতো। এখন যেন সেটি হয়ে উঠেছে উৎসবের রঙিন অংশ। কেউ করে প্রকাশ্যে, কেউ করে রাজনৈতিক পরিচয়ে, আবার কেউ করে সমাজের নিয়ম নামক মুখোশ পরে।

বাজার থেকে শুরু করে নির্মাণ সাইট, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট এমনকি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, কোথাও চাঁদার হাত থেকে সাধারণ মানুষের রেহাই নেই।

চাঁদা না দিলে কাজ হবে না, দোকান চলবে না, শান্তি থাকবে না। অথচ এই চাঁদার টাকার কোনো হিসেব নেই, নেই কোনো জবাবদিহি।

চাঁদাবাজির উৎসব চলছে যেন অহর্নিশ, শ্রমিক পরিবহনে চাঁদা, দোকান বসাতে চাঁদা, বিয়ের অনুষ্ঠানেও চাঁদার নামে চাপ। ইফতার, কোরবানি, পূজা উৎসব আয়োজনেই ‘ভদ্র’ চাঁদা রাজনীতির ছত্রছায়ায় 'বাধ্যতামূলক অনুদান।


এই সংস্কৃতি যেন এখন ‘অভ্যাস’। যারা দেয় তারা চুপ, যারা নেয় তারা ‘ক্ষমতাবান’।

প্রশাসনের নীরবতা, রাজনৈতিক আশ্রয়, জনগণের ভয় ও সহ্যশক্তি আইনের প্রয়োগহীনতা, মূলত সাহস বাড়ায় চাঁদাবাজদের।

জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ, আইন প্রয়োগকারীদের স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি, সচেতনতার মাধ্যমে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এই বিষয় গুলোতে সুনজর প্রয়োজন।

শেষ কথা: চাঁদাবাজি আজ আর লুকিয়ে হয় না। এটা যেন এখনকার সমাজে শক্তির প্রতীক। তবে মনে রাখতে হবে, চাঁদার নামে যদি কেউ মানুষকে জিম্মি করে, তাহলে সেটা শুধু অপরাধ নয়, সেটা জাতির বিবেকের মৃত্যুঘণ্টা।

সময় এসেছে রুখে দাঁড়ানোর। ‘উৎসব’ নয়, চাঁদাবাজির প্রতিটি ঘটনা হোক আইনি বিচারের মুখোমুখি।

  • ফারজানা মৃদুলা: সঞ্চালক ও সংবাদকর্মী

আপনার মন্তব্য

আলোচিত