২৫ মার্চ, ২০২৬ ২৩:২৫
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫ মার্চ এক বিভীষিকাময় রাত। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক পরিকল্পনার মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্মম গণহত্যা চালায়। রাজধানী ঢাকায় এই বর্বরতা শুরু হলেও এর প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে, যার মধ্যে সিলেটও ছিল অন্যতম।
সেই সময় সিলেট ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন একটি অঞ্চল। ২৫ মার্চের পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী সিলেটের বিভিন্ন স্থানে দমন-পীড়ন শুরু করে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল স্থানে অভিযান চালানো হয়। নিরীহ মানুষ, ছাত্র, শিক্ষক ও স্বাধীনতার পক্ষে থাকা নেতাকর্মীদের টার্গেট করে নির্বিচারে হত্যা করা হয়।
সিলেটের বন্দরবাজার, আম্বরখানা, জিন্দাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার রাতের আঁধারে ঘরবাড়ি ছেড়ে গ্রামে বা সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানি সেনাদের পাশাপাশি তাদের দোসররা—রাজাকার, আলবদর ও আলশামস—স্থানীয়ভাবে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে সিলেটের বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও গণহত্যার ঘটনা ঘটে। অনেক নিরীহ মানুষ শহীদ হন, যাদের নাম ইতিহাসে অজানা থেকে গেছে। তবুও তাদের আত্মত্যাগই আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি গড়ে দেয়।
এই কালরাত্রির পর থেকেই সিলেটের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে সংগঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের শক্তি। সিলেট অঞ্চল পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতায় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান।
২৫ মার্চ আমাদের জন্য শুধু শোকের দিন নয়, এটি প্রতিবাদেরও দিন। সিলেটসহ সারাদেশের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা স্মরণ করি সেইসব নিরপরাধ মানুষকে, যারা এক ভয়াল রাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
গণহত্যা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার—ইতিহাসের এই নির্মম সত্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, এবং যেকোনো অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা। কারণ, এই ত্যাগের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।
আকাশ চৌধুরী : সাংবাদিক
আপনার মন্তব্য