২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৩৬
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং প্রধান নির্বাচনি এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। এসব অভিযোগে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে শনিবার (৩১ ওতবোড়) বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৯টায় ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভোটের দিন বিকেল চারটা পর্যন্ত কোনো অনিয়মের সুরাহা করতে পারেনি প্রশাসন। সকালে যে পরিস্থিতি দেখেছিলেন, ভোট শেষ হওয়ার পরও তা অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের পোলিং এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় এজেন্টদের বের করে দেওয়ার পর নিজেদের মতো করে ফলাফল তৈরি করা হয়েছে।
কোনো কোনো কেন্দ্রে ফলাফল না দিয়েই বাক্সভর্তি ব্যালট নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়িবাড়ি হাই স্কুল কেন্দ্রে প্রকাশ্যে টেবিলের ওপর ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার প্রতিবাদ করায় তাদের প্রধান নির্বাচনি এজেন্টের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে প্রশাসন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
একজন প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিরাপদ না থাকলে নির্বাচন কতটা একতরফা হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফলাফল ঘোষণার আগেই বিজয় র্যালি ও মিষ্টি বিতরণের প্রসঙ্গ তুলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি হাস্যকর ও পূর্বপরিকল্পিত। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মালা পরানো, মিষ্টি খাওয়ানো ও বিজয় র্যালির খবর দেখা গেছে। এতে সবকিছু আগে থেকেই গোছানো ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিভিন্ন প্রচারণায় আগেই বলে বেড়াতেন, এবার গতবারের চেয়ে এক থেকে দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দিনভর অনিয়ম, হামলা ও কারচুপির ঘটনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পোলিং এজেন্ট শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন। নিরাপত্তার অভাবে অনেকে বাড়িতেও ফিরতে পারছেন না বলে দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের সব কটির ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। ফলে ফয়সল আমীন ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২৮৮ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলিম নিজামী বটগাছ প্রতীকে ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে ৪৪৯ ভোট পেয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১২৩টি। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩০৮টি ভোট বাতিল হয়েছে। ভোট প্রদানের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
উল্লেখ্য, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপনির্বাচনে বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছিলেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট। হিসাবে মির্জা ফখরুলের কাছে ৯৭ হাজার ৮১৯ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন দেলাওয়ার। এবার হারলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের ব্যবধানে।
আপনার মন্তব্য