মাধবপুর প্রতিনিধি

০১ আগস্ট, ২০২৩ ১৭:২৮

মাধবপুরে হত্যাকারীদের বিচার ও নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

হবিগঞ্জের মাধবপুরে রাষ্টু মিয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।

পূর্ব মাধবপুর গ্রামবাসীর আয়োজনে মঙ্গলবার সকালে থানার সামনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন কিতাব আলী, মো. ফজর আলী, ইব্রাহিম পাঠান, খোকন পাঠান, আহাদ পাঠান, আছিয়া খাতুন, সুমি আক্তার, ছোট্টু মিয়া পাঠান, সুজন পাঠান, নান্টু পাঠান, টুক্কু মিয়া পাঠান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, নিহত রাষ্টু মিয়া প্রতিবন্ধী হলেও বিভিন্ন ব্যবসা করে কিছু সম্পদ সঞ্চয় করে। এতে তার পিতা গুনি মিয়া ও তার ছেলে ছুরুক মিয়া পাঠান, আফজল পাঠান, উজ্জ্বল পাঠান, এমরান পাঠান, হৃদয় পাঠান, বাদল পাঠান, কাজল পাঠান মিলে তার সঞ্চিত সম্পদ ও পিতার প্রাপ্য অংশ আত্মসাৎ করার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। অপরদিকে উজ্জ্বল পাঠান গংরা এলাকায় দাদন ও মাদক ব্যবসায়ী। তারা সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এবং তাদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে খুনের মামলাসহ অনেক মামলা মোকদ্দমা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাদের বাড়ি পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের পূর্ব মাধবপুর গ্রামে মাধবপুর-শাহপুর রাস্তার পাশে অবস্থিত। এ রাস্তা দিয়ে মুরাদপুর, হরিশ্যামা, সুন্দাদিল, কুটানিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের শত শত মানুষ রাতে-দিনে চলাচল করে থাকে। প্রায়ই এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা, মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিস ছিনতাই করে নিয়ে যেত। কেউ বিচার দিলে তাদের উপর শারীরিক অত্যাচার এবং গালিগালাজ করত। ভয়ে কেউ এর প্রতিবাদ করত না।

তারা আরও বলেন, রাষ্টু মিয়া হত্যাকাণ্ডের ৬ মাস পূর্বে এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের অত্যাচার নির্যাতনের বিষয়ে একটি মিটিং করেন। এতে তারা আরও বেশি উশৃঙ্খল হয়ে পরেরে। ২০২০ সালে ১৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকটি গ্রামের মানুষ তাদের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় বসে। সভা শেষে লোকজন তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অতর্কিতে হামলা করে। এলাকার নিরীহ জনসাধারণকে ফাঁসাতে কৌশলে রাষ্টু মিয়াকে তাদের ভাইয়েরা মিলে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ সময় রাষ্টু মিয়ার স্ত্রী তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তারা রাষ্টু মিয়ার স্ত্রী ও সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে একটি ঘরে আটকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে প্রতিবাদকারীদের উচিৎ শিক্ষা দেয়ার জন্যে উজ্জ্বল পাঠান বাদী হয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের আসামি করে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করে। অপর দিকে রাষ্টু মিয়ার স্ত্রী মারুফা খাতুন বাদী হয়ে উজ্জ্বল পাঠান, বাদল পাঠান গংদের আসামি করে হবিগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান এলাকাবাসী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত