০৩ আগস্ট, ২০২৩ ০৩:২৬
বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পৌর আওয়ামী লীগের দেওয়া প্রতিবাদের পাল্টা প্রতিবাদ জানিয়েছেন পৌরসভার কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলররা।
বুধবার (২ আগস্ট) রাতে যুক্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এই পাল্টা প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ-বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার (১ আগস্ট) বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিশ্বনাথ তথা সিলেটের সর্বাধিক জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ও বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পৌর আওয়ামী লীগের পক্ষে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এজন্য তারা পৌর আওয়ামী লীগের দেওয়া বিবৃতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পাল্টা প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দাতারা হচ্ছেন, বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বিশ্বনাথ পৌরসভার প্যানেল মেয়র রফিক হাসান, উপজেলা শ্রমিক লীগের কার্যনির্বাহী সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য পৌরসভার কাউন্সিলর ফজর আলী, পৌর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও পৌরসভার কাউন্সিলর বারাম উদ্দিন, বিশ্বনাথ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর লাকী বেগম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর রাসনা বেগম ও পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর সাবিনা ইয়াসমিন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, বিশ্বনাথে দলমত নির্বিশেষে সকল মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক দুইবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রথম ও প্রতিষ্ঠাতা মেয়র মুহিবুর রহমানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে অপব্যাখ্যা দিয়ে বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামী লীগ যে বক্তব্য প্রদান করেছে তা দুর্নীতিবাজদের পক্ষাবলম্বন করা ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা মেয়রের বিরুদ্ধে যে মানহানিকর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন তা শান্তি প্রিয় বিশ্বনাথবাসীকে দ্বিধাবিভক্ত করা, সমাজে বিভ্রান্তি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ছাড়াও কিছুই নয়। তাদের এসব উদ্ভট বক্তব্য প্রত্যাহার এবং এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহবানও জানান তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা আরও বলেন, সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিশ্বনাথ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে নৌকার ভরাডুবি নিয়ে মেয়রের যে বক্তব্য তা শতভাগ সত্য। এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের উপর কিভাবে বর্তায় তা তাদের বোধগম্য নয়। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরণের বক্তব্য দেওয়া পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগকে দ্বিধাবিভক্ত করা ওই সকল নেতৃবৃন্দের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। প্রকৃত পক্ষে মুহিবুর রহমান আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত প্রাণ।
তিনি ১৯৮০ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। ১৯৮০ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী ছিলেন। তার বিপরীতে সুফিয়ান চৌধুরীও প্রার্থী ছিলেন। তিনি ১৯৮৮ সালে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫-৭৬-এ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের ভোটেও জয়লাভ করে কেন্দ্র থেকে নৌকার মনোনয়ন পান। তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে বুকে লালন করেন বলেই ৫টি ইউনিয়নে নৌকার শোচনীয় পরাজয়ে নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেছেন এবং আওয়ামী লীগকে আগামীতে ঢেলে সাজানোর আহবান জানিয়েছেন। পৌর নির্বাচনে তার কাছে তথাকথিত নেতৃবৃন্দের ভুলেই ব্যক্তি মুহিবের কাছে নৌকার শোচনীয় পরাজয় ঘটে এবং এই তথাকথিত নেতৃবৃন্দের কারণে ইউনিয়ন নির্বাচনে ও নৌকার শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে।
কেন্দ্রীয় ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা আরও বলেন, বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর শাসনামলে বিশ্বনাথে যখন আওয়ামী লীগ নাম কেউ নিতে সাহস পায়নি তখন মুহিবুর রহমানই মাঠে ছিলেন এবং সিলেট জেলায় একমাত্র তিনিই ইলিয়াস আলীর অন্যায় কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মাঠে সোচ্চার ছিলেন। নিজেদের ভুল না শুধরিয়ে একজন জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে তাদের এই বক্তব্য শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ছাড়া আর কিছুই নয়। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তথাকথিত নেতৃবৃন্দের এই বক্তব্য পক্ষান্তরে বিএনপি জামায়াত ও দুর্নীতিবাজদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মা তথাকথিত নেতৃবৃন্দের হাত থেকে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী। এজন্য সিলেট জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।
আপনার মন্তব্য