২৬ জুন, ২০১৫ ১৯:৫০
সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও আন্তর্জাতিক মাদক পাচার বিরোধী দিবস। সকালে নগরীরর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জেলা প্রশাসন ও আঞ্চলিক মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অয়োজনে মাদক বিরোধী দীর্ঘ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসনিক ও সাধারন নাগরিকদের পাশপাশি মাদক নিয়ন্ত্রন ও পুনর্বাসন সংস্থা প্রত্যাশা’র সহস্রাধিক সদস্য অংশ নেন।
মাববন্ধনের বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্ম আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, সুন্দর দেশ গঠনের কান্ডারী। তাদেরকে যথাযথভাবে গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে অভিভাবক, পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
মাদকাসক্ত যুবক একটি পরিবারকে ধবংস করে দিতে পারে। তাদেরকে অবহেলা না করে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফিরে আনা সম্ভব।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: জয়নাল আবেদীন এর সভাপতিত্বে ও জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো: জামাল উদ্দীন আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো: মিজানুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো: কামরুল আহসান, বিজিবি সিলেটের সিও ৫ এর লেফট্যান্ট কর্ণেল আবু মোহাম্মদ মহি উদ্দিন, সিলেট র্যাব এর সিও উইং কমান্ডার তাহসিন ফেরদৌস আহমদ খান।
এসময় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশা মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও সমন্বিত পুনর্বাসন পক্রিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুর আহমদ, প্রত্যাশার নির্বাহী পরিচালক জাহেদ আহমদ বাবু, জাহাঙ্গীর চৌধুরী, সৈয়দ নাইমুর রহমান, দুলাল আহমদ, সাহিদুর রহমান রাজু, ইফতি আহমদ সুমিম, মহসিন তালুকদার, রাশেদ আহমদ, গোলাপ মিয়া, শ্যামল, রাজীব, অমিত, হাসান, রোহিত, রুবেল মিয়া, তানভীর, রেদওয়ান লিমন প্রমুখ। মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করে প্রত্যাশা মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও সমন্বিত পুনর্বাসন পক্রিয়া, বাধন, আহবান, প্রতিশ্রুতি, এইম ইন লাইফ, প্রশান্তি, প্রেরণা সহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সংগঠন অংশ গ্রহণ করে।
মানববন্ধন শেষে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রতিপাদ্য বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ আঞ্চলিক মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লাসহ, পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো মিজানুর রহমানসহ কর্মকর্তারা।
বক্তরা বলেন, মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও ভৌগলিক কারনে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে এদেশে। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও পাচার রোধে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মাদক পাচার রোধে অধিদপ্তরের লোকবল ও আনুসাংগিক সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া সীমোন্তে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কার্যালয় চালু প্রয়োজন বলে অভিমত জানান বক্তরা।
আপনার মন্তব্য