সেলিম আহমেদ, কুলাউড়া

০২ জুলাই, ২০১৫ ১২:১৬

কুলাউড়ার ঝিমাই বাগান ও পুঞ্জির বিরোধ নিস্পত্তি অনিশ্চয়তার মুখে

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঝিমাই চা বাগান ও পানপুঞ্জির মধ্যে ভূমি নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলতি বছরের শুরুতে নিস্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ৬ মাস অতিবাহিত হলেও তা নিস্পত্তি হয়নি। ফলে প্রসাশনের উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রশাসন উভয়পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দু’দফা জরিপ কাজ শুরু করলেও তা পুঞ্জিবাসীর অসহযোগিতার কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে বিষয়টি নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে।

গতকাল বুধবার ঝিমাই চা বাগান ও পানপুঞ্জির বিরোধকৃত জায়গায় সরেজমিন পরিদর্শণে গেলে জানা যায়, গত ১৫ জুন মৌলভীবাজার জেলার প্রশাসকের কার্যালয়ে চা বাগান ও পুঞ্জিবাসীর মধ্যে ভূমির বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দু’পক্ষের সম্মতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি চুড়ান্ত হয়। প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত ঝিমাই চা বাগান ও ঝিমাই পানপুঞ্জির লোকজন একমত হয়। ওই বৈঠকে পুঞ্জির লোকজনকে ২ একর জমি করে বরাদ্ধ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৬ জুন শুক্রবার প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক জরিপ কাজ শুরু হয়। পরদিন ২৭ জুন শনিবার পানপুঞ্জির পান কাটার অযুহাতে জরিপ কাজে বাধা দেয়। ফলে জরিপকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগেও গত এপ্রিল মাসে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জরিপকাজ শুরু হয়। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে সেই জরিপকাজ চলাকালে পুঞ্জিবাসী পাগলাঘন্টা বাজিয়ে জরিপ কাজ বন্ধ করে দেয়।

ঝিমাই চা বাগানের ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, তারা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বারবার অমান্য করেছে। বাগানের বন্দোবস্তকৃত ৬৮৬ একর ভুমির মধ্যে ৩৭১ একর জমি খাসিয়াদের দখলে। বাগান শান্তিপূর্ণভাবে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ পানপুঞ্জির লোকজন মাঝে মাঝে বহিরাগত লোকজনকে পুঞ্জিতে এনে পুরো পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। ফলে পানপু্িঞ্জর লোকজন সমঝোতা বৈঠকে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে আসলেও পরে তা প্রত্যাখ্যান করে।

এব্যাপারে ঝিমাই পানপুঞ্জির মন্ত্রী (হেডম্যান) রানা সুরং জানান, প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা সঠিক নয়। বাগান লিজ নিয়েছে। সেই লিজকৃত জমি কিভাবে আবার বরাদ্ধ দেবে। এটা সরকারি নীতিমালা পরিপন্থী। আমরা সেই সিদ্ধান্ত মানি না। জীবন দিয়ে হলেও আমরা তা প্রতিরোধ করবো।

এব্যাপারে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান জানান, দু’পক্ষের সমঝোতা বৈঠকে উভয় পক্ষ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। এরপর আমি বিদেশ সফরে গিয়েছিলাম। দেশে আসার পর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি কিছু জানিনা। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত