নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ জুলাই, ২০১৫ ১৪:৩৬

ফুটপাত নয়, যেনো ফুটবাজার!

নগরীতে ফুটপাত বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। যা ছিলো তার পুরােটাজুড়েই গড়ে উঠেছে দোকানপাট। ফুটপাত এখন হয়ে উঠেছে ফুটবাজার।

ফুটপাত তো গেলো, এখন ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের জন্য সড়ক টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে উঠেছে। নগরীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর সড়কের প্রায় অর্ধেকটাই দখল করে বসেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ফলে পথচারীদের হাঁটাচলা, যানবাহন চলাচল সবকিছুই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। রোজার মৌসুমে যা অসহনীয় আকার ধারণ করেছে।

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, হকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রচুর হৈচৈ হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব যাদের, তাদের মিটিংয়ের পর মিটিং, বড় বড় কথা, পারষ্পারিক দোষারূপ, লোক দেখানো অভিযান এইসব এতোদিনে কম হয়নি।

এইসব উদ্যোগ হম্বিতম্বিতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাঁদার রেটটাই কেবল বেড়েছে। কিন্তু ফুটপাতে হকার বেড়েছ বৈ কমেনি। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকে তো ফুটপাতে রীতিমত হকারজট লেগে গেছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ, সিটি করপোরেশন, সরকারদলীয় নেতাদের মদদেই ফুটপাত দখল করে নিয়েছে হকাররা। ফুটপাতে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসার জন্য এই তিন গোষ্ঠিকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা দিতে হয় হকারদের। চাঁদা নিয়ে এই তিন গোষ্ঠিই ফুটপাতে বসায় হকারদের। যদিও মুখে তারা হকার উচ্ছেদ-পুণর্বাসনের কথা বলে থাকেন।

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার, তালতলা, সুরমা মার্কেট, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, লামাবাজার, রিকাবীবাজারসহ বেশ কয়েকটি ব্যস্ততম এলাকা ঘুরে দেখা যায় ফুটপাতে প্রায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। গাদাগাদি করে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। অনেকস্থানে পলিথিন দিয়ে সামিয়ানা টাঙিয়েছেন ফুটপাতের উপর। বিদ্যুতের লাইন থেকে নামিয়ে লাগানো হয়েছে বৈদ্যুতিক বাতিও।

শাকসব্জি ও ফলমুলের ভাসমান দোকানীরা পসরা সাজিয়েছে যত্রতত্র। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে রাজপথ দখল করে ব্যবসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফুটপাতে কাপড়সহ অন্যান্য ঈদের অনুসঙ্গের বাজার বসতে শুরু করেছে। ফুটপাত যেনো এক ঈদ বাজার।

বন্দরবাজারে ফুটপাতে দোকান দিয়ে বসা কামাল আহমেদ বলেন, ১০ বছর যাবত এই ব্যবসা করছি, আর পুলিশকে প্রতিদিন ২০-৫০ দিচ্ছি। এরপর আর কে ব্যবসা বন্ধ করাবে।

সিটি করপোরেশন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, সকালে তুলে দিলে দুপুরে আবার বসা যায় সমস্যা হয় না।

জিন্দাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক সিডি ব্যবসায়ী দোকান নিয়ে প্রায় রাস্তার মঝামাঝি স্থানে চলে এসেছে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, সেও এখানে টাকা দিয়ে ব্যবসা করছে। এখানে প্রতিটি দোকান থেকেই পুলিশ চাঁদা নিয়ে যায়। এই এলাকায় ছোট দোকান ২০ টাকা এবং অন্য সব দোকানের জন্য ৫০-১০০ টাকা পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে।

জেলা জজ কোর্টর বাইরের ফুটপাত এলাকায় প্রতিটি দোকানের জন্য একই হিসাবে ২০, ৫০, ৮০, ১০০ টাকা করে দিতে হয়। পুলিশের পাশাপাশি সরকারদলীয় নেতা পরিচয় দিয়েও চাঁদা সংগ্রহ করা হয় এ স্থান থেকে।

এ ব্যপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) রেজাউল করিম বলেন, হাকারদের তুলে দিলে আবার বসে যায়। এটা একটা সমস্যা। এ নিয়ে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। ফুটপাতের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে বসে এ ব্যাপারে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌছার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, টাকা নিয়ে হকারদের ফুটপাতে বসাতে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি কপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, হকারমুক্ত ফুটপাত রাখতে আমরা বার বার চেষ্টা করছি। পারা যাচ্ছে না। এবার যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিগগির অভিযান হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত