তপন কুমার দাস, বড়লেখা

০৩ জুলাই, ২০১৫ ১৬:৫৯

বড়লেখা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি ঘোষনা; অবগত নন অনেকেই

র্দীঘদিন থেকে বয়ে চলা দ্বন্ধ নিরসনের লক্ষ্যে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা ও পৌর কমিটিতে জেলা সভাপতি এম নাসের রহমান ও সাধারণ সম্পাদক খালেদা রব্বানীর যৌথ স্বাক্ষরে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির কমিটির নাম ঘোষনা করা হলেও মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সাবেক এমপি, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী সহ অনেকে জানেন না। এ নিয়ে অনেক ত্যাগী নেতা কর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপিতে ২০০৯ সাল থেকে কমিটি নিয়ে চলছে দ্বন্ধ। জেলা কমিটির এই অভ্যন্তরীন দ্বন্ধের রেশ ছড়িয়ে পড়ে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও। সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ ও সভাপতি গ্রুপ দলের মধ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে সক্রিয় হওয়ায় জেলার সবক’টি সাংগঠনিক উপজেলায়ও এই দ্বন্ধ চললে আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় বড়লেখাতেও হয় দু’টি কমিটি। ২০০৯ সালে হওয়া একটি কমিটির অনুমোদন দেন জেলা সভাপতি এম নাসের রহমান আর অপরটি অনুমোদন আনা হয় কেন্দ্র কমিটি থেকে। জেলা সভাপতির অনুমোদীত কমিটিতে জেলা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর বা সম্মতি না থাকলেও জেলা সম্পাদকের সমর্থন পায় কেন্দ্র থেকে অনুমোদন নিয়ে আসা কমিটি। তখনকার এই কমিটির গুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নাসের রহমান সমর্থিত কমিটির সভাপতি দারাদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হক।

খালেদা রব্বানী সমর্থিত কমিটির সভাপতি হাফিজ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক দারাদ আহমদ। তখন এক কমিটির নেতৃত্ব দেন দারাদ আহমদ ও অপর কমিটির নেতৃত্ব দেন হাফিজ আহমদ। বিগত দিনের রাজপথের আন্দোলনে বড়লেখায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালিত হয় আলাদা আলাদা ভাবে। আন্দোলনে জেলার মধ্যে অন্যতম সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বড়লেখার নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন থেকে দু’টি ধারায় আন্দোলন চলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল ক্ষোভের অন্ত ছিলনা।

হাতাশাগ্রস্থ তৃণমূলের এ সকল নেতা কর্মীরা জেলা কমিটিসহ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে বিরাজমান অবস্থা নিরসনে তাদের হস্তক্ষেপ চায়। অবশেষে তাদের জোরালো দাবীর প্রেক্ষিতে উভয় গ্রুপকে এক করে সমঝতার ভিত্তিতে একটি কমিটির তালিকা পাঠাতে জেলা নেতৃবৃন্দরা দ্বায়িত্ব দেন জেলা বিএনপি নেতা, জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুকে। তিনি দীর্ঘ কয়েক মাস এনিয়ে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী একটি কমিটির তালিকা পাঠান জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে।  
এর প্রেক্ষিতে তৃণমুলের প্রস্তাবিত এই তালিকা অনুযায়ী যাচাই বাচাই শেষে জুন মাসের ২২ তারিখে বড়লেখা উপজেলা ও পৌর কমিটির ঘোষণা দেন জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বড়লেখা উপজেলা বিএনপির নতুন নির্বাহী কমিটির সভাপতি হলেন মোঃ আব্দুল হাফিজ, সাধারন সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান (খছরু) ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আবুস সহিদ খান এবং বড়লেখা পৌর বিএনপির সভাপতি হলেন আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক রেহানা বেগম হাছনা ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মুক্তাদির হোসেন মিছবাহ।  

নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান (খছরু) বলেন, জেলা নেতৃবৃন্ধ র্দীঘদিন থেকে বয়ে চলা দ্বন্ধ নিরসনের লক্ষ্যে দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীদের নিয়ে কোন্দল নিরসনে এ কমিটি দিয়েছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতে দলের কার্যক্রম পরিচালনায় ও আন্দোলনে এ কমিটি বড়লেখায় অগ্রনি ভূমিকা রাখবে।  

বড়লেখা উপজেলার নতুন কমিটি নিয়ে বড়লেখা উপজেলা যুবদল সভাপতি ও পৌর মেয়র প্রভাষক ফখরুল ইসলাম ও বড়লেখা বিএনপির বিবাদমান সাবেক দু’কমিটিতে  সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পাওয়া দারাদ আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা নতুন কমিটির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তারা ক্ষোভের সাথে জানান, যারা তৃণমূলে দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেন তাদেরকে উপেক্ষা করে কোন ধরনের পূর্ব ঘোষনা কিংবা কাউন্সিল ছাড়া কি ভাবে কমিটি হয় তা তাদের বোধগম্য নয়। তারা এ বিষয়ে কেন্দ্র কমিটিকে অবগত করবেন বলে জানান। এ কমিটি আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, এ কমিটির বিষয়ে আমি জানি না। গঠনতন্ত্রে এরকম কোন কমিটির বিধান নেই। গঠনতন্ত্র অনুসারে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হতে হবে। এমনকি জেলা কমিটি ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি দিয়েছে তা তারা করতে পারে না। সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীর মতামতের ভিত্তিতে কমিটি হওয়ার কথা। কমিটি কখন কোথায় হল এ বিষয়টিও কেউ জানেনা। এ ভাবে কমিটি করায় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত