নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ জুলাই, ২০১৫ ০২:৪৭

একবছর আগেই আইএসে যোগ দিতে চেয়েছিলো রাজিয়া (ভিডিও)

ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাও গ্রামের এই বাড়ির প্রবাসী ১২ সদস্য যোগ দেন আইএসে

একবছর আগে আরেকবার যুক্তরাজ্য থেকে সিরিয়া গিয়ে আইএসে যোগ দিতে চেয়েছিলো রাজিয়া খানম (২১)। এমনটি জানিয়েছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁওয়ে অবস্থানরত রাজিয়ার চাচা আব্দুল লতিফ।

প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় দফায় ১২ সদস্যের পুরো পরিবার নিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেয় রাজিয়া। পরিবারের অন্য সদস্যদের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে রাজিয়া সিরিয়ায় নিয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন আব্দুল লতিফ।

যুক্তরাজ্যের লুটনে বসবাসকারী ১২বাংলাদেশীর আইএসে যোগ দেওয়া নিয়ে সারাবিশ্ব জুড়েই এখন এই পরিবারটিকে নিয়ে চলছে আলোচনা। আব্দুল লতিফ আইএস-এ যোগ দেওয়া পরিবারটির প্রধান আব্দুল মান্নানের ছোট ভাই।

সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম'র সাথে আলাপকালে আব্দুল লতিফ বলেন, এক বছর আগে একবার লন্ডন থাকা অবস্থায় রাজিয়া তার মাকে সিরিয়া গিয়ে আইএসে যোগ দেওয়ার কথা বলেছিল। তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে বুঝিয়ে আটকে রাখে।

আব্দুল লতিফ বলেন, তখন চলে গেলেই বোধহয় ভালো ছিলো। তখন গেলে সে হয়তো একা যেতো। পরিবারের অন্য সদস্যরা রক্ষা পেতো। কিন্ত এখন তো সবাইকে নিয়ে চলে গেলো। আব্দুল লতিফের ধারণা, পরিবারের অন্য সদস্যদের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে রাজিয়াই হয়তো সিরিয়া নিয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্য থেকে এবার বাংলাদেশে আসার সময় লন্ডন বিমানবন্দরে রাজিয়াকে যুক্তরাজ্য পুলিশ ৬ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে উল্লেখ করে আব্দুল লতিফ বলেন, এই ঘটনার কথা মনে করিয়ে রাজিয়া হয়তো পরিবারের অন্য সদস্যদের ভয় দেখিয়েছে। হয়তো বলেছে- 'লন্ডন ফিরে গেলে পুলিশ তোমাদের হয়রানি করবে, আটক করবে।'

দেশে একমাস অবস্থানকালীন সময়ে রাজিয়ার সন্দেহজনক আচরণের কথা উল্লেখ করে আব্দুল লতিফ বলেন, 'তাই দেশো তাকতে ভাত খা্ওয়ার কথা কইলেও বোরকা, হিজাব, নিকাব, হাত মোজা, পা মোজা লাগাইয়া টেবিলো যাইতো। আর খালি তিন বইন এক রুম বই থাকতো। অখন মনে অর তারা কিতার লাগি ইতা করতো।'

আব্দুল আরও লতিফ বলেন, আমরাও তো মুসলমান । আমাদের বাবা-মাও ইসলামের শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু ইসলামের নাম করে উগ্রতার শিক্ষা আমাদের দেওয়া হয়নি, এসব বাড়াবাড়ি।

নিজের পরিবার থেকে শিক্ষা নিয়ে আব্দুল লতিফ অন্যান্য অভিভাবকেদর উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তানদের আচরণে ধর্ম নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি, উগ্রতার লক্ষণ পেলে অভিভাবদের এ ব্যাপারে খোঁজখবরর নেওয়া দরকার। সন্তানদের উপর নজরদারি রাখা দরকার। নতুবা হয়তো বড় ধরণের অঘটন ঘটে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল পুরো পরিবারকে নিয়ে দেশে এসেছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মান্নান। এসময় ফেঞ্চুগঞ্জের নিজ বাড়িতে এক মাস অবস্থান করেন তারা। ১২ মে যুক্তরাজ্য যাওয়ার কথা বলে বাংলাদেশ ছাড়লেও তারা যুক্তরাজ্যে না ফিরে তুরষ্ক হয়ে সিরিয়ায় চলে যান। এরপর আইএস থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, এই পরিারের ১২ সদস্য আইএসে যোগ দিয়েছেন।

আইএসে যোগ দেওয়া ৭৫ বছর বয়সী মান্নানের পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন- স্ত্রী মিনারা খাতুন (৫৩), মেয়ে রাজিয়া খানম (২১), ছেলে মোহাম্মদ জায়েদ হুসাইন (২৫), মোহাম্মদ তৌফিক হুসাইন (১৯), মোহাম্মদ আবিল কাশেম সাকের (৩১) এবং তার স্ত্রী সাঈদা খানম (২৭); মোহাম্মদ সালেহ হুসাইন (২৬), তার স্ত্রী রশানারা বেগম (২৪) এবং তাদের তিন সন্তান, যাদের বয়স এক থেকে ১১ বছর।

ভিডিও :

আপনার মন্তব্য

আলোচিত