১১ জুলাই, ২০১৫ ১৭:১১
মোদী কটি। এবার ঈদে তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে এ পোষাক। মডেল : হাসান মো. শামীম
কেবল শো-বিজের তারকারা নন, রাজনৈতিক নেতারাও অনেক সময় হয়ে উঠেন ফ্যাশন আইকন। রাজনৈতিক নেতােদের পরিধেয় পোষাক হয়ে উঠে হাল ফ্যাশনের অনুসঙ্গ।
এবার যেমন ঈদের ছেলেদের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন পোষাক হয়ে উঠেছে মোদি কটি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ মোদির নামাঙ্কিত এই কটির চাহিদা নাকি এবারে ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর কটিও ফ্যাশন আইকন হয়ে ওঠেছিলো। যা মুজিব কোট নাম ব্যাপক পরিচিতি পায়। কিন্তু বাংলাদেশের বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবায়তায় মুজিব কোট হয়ে গেছে একটি দলীয় লেবাস আর মোদি কটি হয়ে উঠেছে ফ্যাশন। তরুণদের প্রথম পছন্দ।
জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার পর থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মোদি কটি। আর ঈদের মৌসুমে এসে তো এ নিয়ে একেবারে হুড়োহুড়ি লেগে গেছে! মোদীর নামে কটি কেনার যেন হিড়িক পড়েছে তরুন থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাঞ্জাবীর পাশাপাশি শার্টের উপর পরা যায় বলে এ ধরনের কটির এবার ব্যাপক চাহিদা।
নগরীর বারুতখানায় বেং-এর শোরুমের ম্যানেজার মো. লাভলু বলেন, এবারের ঈদে ফ্যাশন সচেতন তরুনদের প্রথম পছন্দ বলা যায় মোদী কটি। যেকোনো পোশাকের সঙ্গে পরা যায় বলে সকলেই হাল ফ্যাশনের এই কটি কিনছেন। তিনি জানান, তাদের শো রুমে এক হাজার থেকে শুরু করে আড়াই হাজারের মধ্যে বিভিন্ন মানের মোদী কটি পাওয়া যাচ্ছে।
নগরীর জিন্দাবাজারের লতিফ সেন্টারের ভনজার শোরুমের স্বত্ত্বাধিকারী মীর মোশারফ হোসেন বলেন, প্রত্যেক ঈদে এক এক ধরণের পোষাকের চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। এবার ছেলের পোষাকে এই চাহিদা কেঁড়ে নিয়েছে মোদী কটি।
সরজমিনে দেখা গেছে, নগরীর অভিজাত বিপনী বিতান কাষিশ, আল হামরা শপিং সিটির এশিয়া পাঞ্জাবী হাউজ, সিটি সেন্টারের ইনফিনিটি, লুবনান, আম্বরখানার তুলনা, লামাবাজারের দেশী- ছেলের যেকোনো ফ্যাশন হাউজেই এবার মোদী কটিতে মজেছেন সবাই। এ সময়
ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফর করেছেন। এই সুযোগে ফ্যাশন ডিজাইনাররা তড়িঘড়ি করে ঈদের বাজারে মোদীর পরিধেয় কটির মত কটি বাজারে নিয়ে আসেন। বাড়তি চাহিদার কথা চিন্তা করে অনেক ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে ভারত থেকে প্রচুর কটি আমদানী করেছেন বলে জানা গেছে।
নগরীর বিভিন্ন পাঞ্জাবী দোকানের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রতি বছর-ই পাঞ্জাবীর সঙ্গে অনেকেই কটি কিনেন। কিন্তু এবার মোদী কটির প্রতি তরুণদের বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এজন্য ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ শোরুমের বড় অংশ জুড়ে এ ধরণের কটি সাজিয়ে রেখেছেন। তরুনদের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও মোদী কটিতে আকৃষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন রঙে এই কটি গুলো লিলেন, কটন, সিফন ও চাইনিজ রেশমের কাপড়ে তৈরি। কাপড় ভেদে তাই বিভিন্ন শোরুমে এক হাজার থেকে শুরু করে দু’তিন হাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান।
এক সময় পোশাকের ফ্যাশন মানে মেয়েদের কথা বিবেচনায় আসলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা পাল্টে গেছে বলে মন্তব্য করেন মেট্রোপলিটন ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থী শিপলু। তিনি বলেন, এখন ছেলেরাও অনেক বেশি ফ্যাশন সচেতন। আর এজন্য প্রতি ঈদে নৈমিত্তিক পোশাক শার্ট-পেন্ট বা পাঞ্জাবী-পায়জামায় নতুনত্ব আসছে। এরই অংশ হিসেবেই এবার বাজার মাতাচ্ছে মোদী কটি।
বাংলাদেশ সফরের সময় কথাবার্তার পাশাপাশি মোদীর ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক কটি তরুণ প্রজন্মের পছন্দ হয়েছে বলে মনে করেন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী নয়ন।
আপনার মন্তব্য