১২ জুলাই, ২০১৫ ০৪:১৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ঈদ কেনা কাটা শুরু হয়েছে আর ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিটি গার্মেন্টস, প্রসাধনী, কসমেটিক্স, শাড়ী, লুঙ্গী, এমিটেশনের গহনার দোকানের মালিক, কর্মচারীগন। রোজার ঈদ কে সামনে রেখে গরীব,ধনী সবাই যার যার সাধ্য মত আনন্দে ভাসার চেষ্টায় কিনছেন নতুন কাপড়। এবার ঈদ শুরু বর্ষায়, তাই বর্ষার সাজে আর সাজাতে প্রস্তুত রেডিমেট তৈরি কাপরের দোকান গুলো। ভারতীয় নাটক দেখে ভারতীয় পোশাকের প্রতি মেয়েদেরে আকর্শনের কারণে কটকটি,কিরন মালা,পাখি সহ বিভিন্ন কাপড়ের প্রতি আকর্শন বেশি আর এই গুলো বেচা-কেনা হচ্ছে বেশি দামে।
তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই, ছাতক, দিরাই, শাল্লা, ধর্মপাশা, মধ্যনগর সহ প্রতিটি উপজেলা হাট বাজার গুলোর বিপনী-বিতানে বইছে ঈদ আনন্দের নতুন কাপড় কেনার জোয়ার আর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে বেশ। আর ছোট ছোট ছেলে,মেয়ে,নারী,পুরুষ সবাই নতুন পোষাকে কিনে নতুন সাজে নিজেকে সাঁজাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। গ্রামাঞ্চলের বাঙ্গালী নারী বার হাত শাড়ি ছাড়া যেন এক বারে বেমানান,হাতে রেশমী চুরি,ছেলেরা শার্ট-লুঙ্গি,আধুনিক মেয়েরা কেউ থ্রি পিছ দিয়ে স্লিম কাটের আধুনিক সাঝেঁ সেলোয়ার আবার কেউ জিন্স পেন্ট গেঞ্জি,পাঞ্জাবী পড়ে ঈদের আনন্দ একে অন্যের সাথে ভাগ করতে নতুন কাপড় কিনছেন।
নামে ভিনদেশী কিন্তু পড়লে বাঙ্গালী এমনেই এক পোষাক হল পাঞ্জাবী। উৎসব এলেই বাঙ্গালী ছেলেরা বনে যায় পাঞ্জাবী ওয়ালা। নতুন শার্ট বা টি-শার্ট বাজারে যতই থাকুক না কেন নতুন পাঞ্জাবী চাই। পাঞ্জাবী ছাড়া মুসলমানদের ঈদ যেন বেমানান তাই ঈদ এলে ছেলে বুড়ো সবারই চাই পাঞ্জাবী তাই কিনছেন অনেকে। তরুনরা স্লিম কাটের পাঞ্জাবী বেশী পছন্দ হলেও বয়স্কদের পছন্দ ট্রাডিশনাল পাঞ্জাবী। ঈদ কে সামনে রেখে তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি হাট-বাজারের ক্রেতাদের পরিবর্তিত ডিজাইন,মার্জিত রুচি সম্পন্ন,চাহিদা,মান সম্মত,বর্ষা ও গরম কে সামনে রেখে বিভিন্ন ডিজাইন,রং বেরঙের সব ধরনের শুতি কাপড়ের ওপর বেশি নজর দিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতাগন।
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ক্রেতা-বিক্রেতাগন জানান, দেশি পোষাকের মত স্বস্তি অন্য কোন কাপড়ের মাঝে নেই। তাছাড়া সুতি আর খাদি কাপড় ঈদ উৎসব কে সামনে রেখে বুটিকস হাউজ গুলো সিল্ক বা মসলিন জমকালো পোষাকের তৈরির মাঝে স্বস্তি ও আভিজাত্য দুই মেলে। ফলে নতুন পোষাকের বৈচিত্র্যময়ে ভড়ে উঠেছে দোকান গুলোর পড়েতে পড়েতে বেচা-কেনা শুরু হয়েছে সামনের দিন গুলোতে আরো বাড়বে আশা করি।
তাহিরপুর বাজারের আরমান গামের্ন্টস দোকান মালিকগন রফিকুল ইসলাম জানান,সালোয়ার,কামিজ,পাঞ্জাবী,ফতুয়া,শার্ট,টি-শার্ট ও শাড়িতে দেখা গেছে নতুনত্ব। কয়েক বছর ধরে দেশি পোষাকের বিভিন্ন ব্যান্ডের ব্যতিক্রমী ডিজাইনের পোষাকের খুঁজে ছুটছেন অনেকে শহরের ফ্যাশন হাউজ গুলোতে। দেশিয় ঐতিহ্য ও সাংকৃতির নানা উৎপাদন ব্যবহার করে পোষাকে শত ভাগ বাঙ্গালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত ফ্যাশন হাউজ গুলো আমরাও ক্রেতাদের দিক বিবেচনা করে পোশাক দোকানে এনেছি বেচা-কেনা ভালই হচ্ছে।
ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানান, জমকালো আলোকসজ্জা নেই,নেই কোন লোভনীয় র্যাফেল ড্র কিংবা আরামদায়ক শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা। তবু সাধ আর সাধ্যের মেলাতে কম ও মধ্য আয়ের লোকজন ঈদে বেছে নিচ্ছেন ফুটপাতের দোকান গুলোতে। এখানে কম বেশি সবেই মিলছে থ্রি পিছ,পাঞ্জাবী,শার্ট,গেঞ্জি কম দামের চাহিদা অনুযায়ী আর আমরা ভালই বেচা-কেনা করছি।
তাহিরপুর বাজারের কসমেটিক্স ব্যবসায়ী সাদেক আলী জানান, বিশেষ দিনে প্রতিটি নারী একটু ভিন্ন ভাবে নিজেকে উপস্থাপন,সাঁজাতে ও সৌন্দর্য বাড়াতে গহনার বিকল্প নেই। তাই তারা পোষাকের সাথে মিল রেখে গহনা, মেহেদী, মাথায় টিকলি, গলায় হার, কানে ঝুমকা, রেশমি চুড়ি, মালা, কানের দুল, চুলের ফিতা, নেইলপলিশ, লিপস্টিটিক, চুলের খোপ সহ অনেক পন্য সামগ্রী ক্রয় করছেন। তাই ভিড় জমেছে বেশ হাওর বেষ্টিত উপজেলার বাজারের বিভিন্ন দোকান গুলোতে।
আপনার মন্তব্য