১৪ জুলাই, ২০১৫ ০৪:৪৪
সৌদি আরবে আটকের পর কামরুলের হাত পা বেঁধে রাখে প্রবাসীরা
অবশেষে ধরা পড়লো কুখ্যাত খুনি কামরুল ইসলাম। সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যাকাণ্ডের মূল হোঁতা কামরুলকে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে আটক করা হয়েছে। সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় সেখানকার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে তাকে পুলিশে দেয়া হয়।
সোমবার স্থানীয় সময় সকালে সৌদি আরবের জেদ্দার হাইআররোওবি এলাকার এক বাংলাদেশির কাছ থেকে খবর পেয়ে এনটিভির জেদ্দা প্রতিনিধি মাসুদ সেলিম, হত্যাকারী কামরুলকে শনাক্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে যান।
একপর্যায়ে তিনি কামরুলের পরিচয় নিশ্চিত হন। তৎক্ষনাত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সাথে যোগাযোগ করেন মাসুদ সেলিম। কনস্যুলেট বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রথম সচিব আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে পাঠান।
কামরুল যে বাড়িতে থাকতেন, সেই বাড়ির সৌদি আরবিয়ান মালিকের সাথে কথা বলেন তাঁরা। পুরো ঘটনা শুনে তিনি সহযোগিতা করতে রাজি হন। পরে বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় কামরুলকে অনুসরণ করে আটক করেন কনসুলেট কর্মকর্তারা। কামরুলের হাত বেঁধে নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশ কনস্যুলেট কার্যালয়ে। সেখান থেকে কামরুলকে সোপর্দ করা হয় হাই আল জামা থানায়। জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল (জেদ্দা) মোকাম্মেল হোসেন কামরুলের গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গণমাধ্যমকে তিনি জানান, যেহেতু কামরুলের নামে সৌদি আরবে কোনো মামলা নেই, তাই সৌদি পুলিশ তাকে আটকে রাখবে না। তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক ইমিগ্রেশন অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজন হত্যাকাণ্ডের পর গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি ৪০৪ বিমানে সৌদি আরবে পালিয়ে যান হত্যাকাণ্ডের মূল হোঁতা কামরুল ইসলাম।
গত ৮ জুলাই বুধবার সকালে সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ের সামিউল আলম রাজনকে চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তারা এই ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করে ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে রাজনের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তার লাশ গুম করার চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হয় ঘাতক মুহিত আলম।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মহানগরের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় আটক মুহিত আলম (৩২) ও তার ভাই সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে।
নিহত শিশু রাজনের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে। রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান মাইক্রোচালক। দুই ভাইয়ের মধ্যে সামিউল আলম রাজন বড়।
হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে রাজন হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মাঠে শুরু হয় বিভিন্ন আন্দোলন।
ভিডিও : সৌদি প্রবাসীরা খুনি কামরুলকে ধরে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন
আপনার মন্তব্য