১৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:১১
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক দিরাই পৌর সদরের রাধানগর গ্রামের চাঁন মিয়া অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। আশি বছর বয়সে কথা বলতে না পারলেও মনোবল রয়েছে তার মধ্যে। বুধবার অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়ার খোঁজখবর নিতে হারানপুরস্থ তার নিজ বাসভবনে উপস্থিত হন সহযোদ্ধা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি।
যুদ্ধকালে ৫ নং সাব-সেক্টর কমান্ডার সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন মো: চাঁন মিয়া। এ সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সহযোদ্ধা চাঁন মিয়ার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন এবং তাকে নিজ হাতে নতুন জামা পড়িয়ে দেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এসময় মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারন করতে গিয়ে বলেন,৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে আমি ৫নং সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলাম, ভাটি অ লে যে কয়জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন চাঁন মিয়া। চাঁন মিয়া শুধু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সরাসরি অপারেশন পরিচালনায় যুক্ত।রাজনৈতিক চিন্তাধারায় তিনি পরিচ্ছন্ন ও অসাম্প্রদায়িক।যুদ্ধের পর তার ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালানো হয়েছে তারপরও প্রগতির পথ থেকে তাকে বিচ্যুত করতে পারে নাই। চান মিয়া পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পোষ্টমাষ্টার হিসেবে চাকুুরী করে,এরপর আমার সাথে তিনি বাম রাজনীতি যুক্ত হয়,পরবর্তিতে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বুলবুল, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ মিয়া,সাংবাদিক হাবিবুর রহমান তালুকদার, টিপু সুলতান, জিয়াউর রহমান লিটন, হুমায়ুন কবির তালুকদার ও চাঁন মিয়ার বড় ছেলে বদরুল ইসলাম সেলিমসহ পরিবারের লোকজন।
এর আগে পরিবারের উদ্যোগে তার রোগমুক্তি ও দোয়া কামনায়, গরীব অসহায় লোকদের মধ্যে ১০০ পিস শাড়ি ও ৫০টি লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।
আপনার মন্তব্য