১৬ জুলাই, ২০১৫ ১৬:৫০
সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজন (১৩) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছয়জন সরাসরি জড়িত ছিল। মামলার প্রধান আসামি মুহিত আলম, তার তিন ভাই আলী মিয়া, শামীম, সৌদিপ্রবাসী কামরুল এবং মার্কেটের চৌকিদার ময়না মিয়া ও দুলাল নামের একজনের নির্মম নির্যাতনে নিহত হয় রাজন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মুহিত এসব তথ্য দিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার চৌকিদার ময়না মিয়াকেও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সেও জিজ্ঞাসাবাদে একই রকম বক্তব্য দিয়েছে পুলিশের কাছে।
বুধবার রাতে গ্রেফতার হওয়া নূর মিয়া ও দুলাল কে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন বলেন, মুহিত ঘটনার ব্যাপারে অনেক তথ্য দিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সব কিছু এখন বলা সম্ভব নয়। মুহিতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মুহিতকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তি না দিলে তাকে ফের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মুহিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার এবং তার ভাইদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। মুহিত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বলেছে, সে নিজে এবং তার বড় ভাই আলী মিয়া, ছোট ভাই কামরুল ও শামীম রাজনের ওপর নির্যাতন চালায়।
এ ছাড়া নির্যাতনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেয় মার্কেটের চৌকিদার ময়না মিয়া ও স্থানীয় শেখপাড়া গ্রামের তাদের আত্মীয় দুলাল মিয়া।
নির্যাতনের একপর্যায়ে রাজন মারা গেলে আলী মিয়ার নির্দেশে মুহিত নিজে, কামরুল, শামীম ও চৌকিদার ময়না লাশ গুম করতে একটি মাইক্রোবাসে করে কুমারগাঁও আবাসিক এলাকায় নিয়ে যায়। এ সময় জনতার হাতে সে (মুহিত) ধরা পড়ে, অন্যরা পালিয়ে যায়।
এদিকে বুধবার রাতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজনের ওপর নির্যাতনের কথা ময়না স্বীকার করেছে বলে জানান ওসি আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ময়না তার গ্রামের বাড়ি কুমারগাঁও সংলগ্ন পীরপুরে একটি বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিল। মঙ্গলবার তারাবিহর পর গ্রামের লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ময়না মিয়া জানিয়েছে, ঘটনার দিন ভোরবেলা সে রাজনকে আটক করে। এ সময় একটি লোহার খুঁটির সঙ্গে রাজনকে বেঁধে কামরুলকে খবর দেয়। কামরুল আসার পর রাজনের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে কামরুলের অন্য ভাইয়েরাও এতে অংশ নেয়।
একপর্যায়ে রাজন মারা গেলে সে (ময়না), মুহিত, শামীম, আলী ও দুলাল লাশ নিয়ে কুমারগাঁও আবাসিক এলাকায় যায়। কিন্তু জনতা সেখানে তাদের ঘেরাও করে ফেললে মুহিত ধরা পড়ে যায়। তবে অন্যরা পালিয়ে যায়।
আপনার মন্তব্য