নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জুলাই, ২০১৫ ০৩:০৮

রাজনের নাম ভাঙ্গিয়ে জমজমাট ব্যবসা!

শিশু সামিউল আলম রাজনকে বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা নাড়া দিয়েছে সমস্ত দেশবাসীকে। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবির পাশপাশি রাজনের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জনাচ্ছেন সবাই। অনেকেই এই পরিবারের প্রতি বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত।

খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শুক্রবার রাজনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবার হাতে ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদানের পাশাপাশি সরকারী কোষাগার থেকে আরো ৫ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। আর্থিক সাহায্য প্রদান করছেন আরো অনেকে। প্রতিদিনই আসছে সাহায্য। দেশের বাইরে থেকেও অনেকে ভালোবেসে রাজনের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করছেন।

ইতোমধ্যে রাজনের ছোই ভাইয়ের লেখাপড়ার সমস্ত খরচ ও রাজন হত্যা মামলার আইনী খরচ চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। দেশের বেশিরভাগ মানুষ যখন ভালোবেসে কাছে টেনে নিয়েছে সন্তান হারানো এই পরিবারটিকে, তখন কেউ কেউ আবার রাজনের নাম ভাঙ্গিয়ে শুরু করেছে ব্যবসা। রাজন ইস্যুতে মানুষের আবেগ ও সমবেদনাকে পুঁজি করে প্রতারণামূলক ব্যবসা শুরু করেছে তারা।

শুক্রবার সিলেট নগরীতে রাজনের নাম ভাঙ্গিয়ে এমন একটি ব্যবসার খোঁজ মিলে। সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রিকশায় মাইক লাগিয়ে ‘রাজনের পরিবারের সাহায্যার্থে’ লটারির কুপন বিক্রি করতে দেখা যায়। মাইক থেকে বারবার ঘোষণা দেয়া হচ্ছে- ‘লটারির টিকেট কিনে রাজনের পরিবারের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসুন, জিতে নিন পুরষ্কার।’ এমন মানবিক আহ্বান শুনে সাধারণ মানুষদের অনেকেই কিনে নিচ্ছেন লটারির টিকেট।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর সুরমা নদীর তীর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রিকশায় মাইক ও ব্যানার লাগিয়ে লটারির টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘শিশু সামিউল আলম রাজনের পরিবারের সাহায্যে এগিয়ে আসুন/ মিম লাকী কুপন’। কুপনের গায়েও একই ধরনের লেখা রয়েছে। প্রতিটি কুপন বিক্রি করা হচ্ছে ১০ টাকায়।

কুপন বিক্রেতারা জানান, সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারে শনিবার থেকে শুরু হওয়ার রথমেলায় এই লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হবে। ড্র তে প্রথম পুরষ্কার মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের পুরষ্কার প্রদান করা হবে বিজয়ীদের। আর কুপন বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ প্রদান করা হবে শিশু রাজনের পরিবারকে।

কুপন ও ব্যানারের গায়ে লেখা রয়েছে জেএস এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠান এই লটারি পরিচালনা করছে। তবে কুপন বিক্রেতারা জানান, রবিন ফার্মাসিটিক্যালস নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের কুপন বিক্রির দায়িত্ব দিয়েছে। জয়নাল আবেদিন জুয়েল নামে রবিন ফার্মাসিটিক্যালসের এক কর্মকর্তার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন বিক্রেতারা। রাজনের পরিবারের অনুমতি নিয়েই এই লটারির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তারা।

তবে কুপন বিক্রেতাদের কেউই নিজেদের নাম বলতে চাননি।

এ ব্যাপারে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বেশ কয়েকবার জয়নাল আবেদিন জুয়েলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

তবে রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, লটারির কুপন বিক্রির ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তার সাথে এ ব্যাপারে কিউ কিছু আলাপ করেনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত