নিউজ ডেস্ক

২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ০৩:১৮

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড: তদন্তে আসছে এফবিআই

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তারা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এফবিআইর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। ডিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ড. অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী ডা. রাফিদা আহমেদ হামলার শিকার হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টায় চিকিৎসক অভিজিৎকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর এফবিআই ও ইন্টারপোল তদন্ত করেছিল। ডিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এফবিআইও। তারা এরই মধ্যে ডিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

অভিজিৎ ও তার স্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাই বিষয়টিকে এফবিআই আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার সঙ্গে বিদেশের তদন্ত সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে তারা পরস্পরের মধ্যে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে কাজ এগিয়ে নেয়।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে জানান- হত্যারহস্য উন্মোচনে র‍্যাব কাজ করছে, এছাড়াও কাজ করছে পুলিশ ও ডিবি। তবে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘন্টার বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। 

মুক্তমনা যে ব্লগে অভিজিৎ রায় লিখতেন সেই সাইটে গতকাল থেকে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। তবে মুক্তমনা ব্লগের এক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে খুব কম সময়ের মধ্যে তারা ফিরে আসছেন। ব্লগে ঢুকে দেখা যাচ্ছে সেখানে কালো ব্যাকগ্রাউণ্ডের মধ্যে শাদা অক্ষরে লিখা- আমরা শোকাহত কিন্তু আমরা অপরাজিত।  

অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, সিলেট ও কক্সবাজারে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।

লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যাকা বিদেশি গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। এপি, এএফপির মতো উল্লেখযোগ্য বার্তা সংস্থা ছাড়াও গার্ডিয়ান, হাফিংটন পোস্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও অভিজিতের খবরটি গুরুত্বসহ প্রকাশ করে।   

 

 

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত