মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ ইং

মাহমুদুল হাসান মাছুম

০৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০১:৫৬

রাজপথ না কাঁপালে রাষ্ট্রের ঘুম ভাঙে না

যেহেতু ধর্ষকের শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ আইন প্রণয়ন করা হয় না। সেহেতু ধরে নেয়া যেতেই পারে রাষ্ট্রের আইন প্রণেতাসহ বুদ্ধি-বিক্রেতাগণ অধিকাংশই ধর্ষণমনস্ক।

প্রসঙ্গত একটা কথা না লিখেই পারছি না- কয়েকদিন আগে টিএসসির স্বপন মামার শিশু কন্যার ধর্ষণ এবং জামিনে বেরিয়ে ধর্ষকের পাল্টা মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি ফেসবুকে আংশিক ভাইরাল হলেও, ঢাবির ছাত্রছাত্রীসহ কথিত প্রগতিশীলদের দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি বা পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এটা দুঃখজনক, না কি দায়সারা কপটতা? অথচ স্বপন মামার চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়ায়নি এমন ছাত্রছাত্রী বা টিএসসিতে আগত মানুষজন খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

আমি মনে করি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রতিবাদ জানানো একপ্রকার চতুর মানসিক প্রতিবন্ধকতা, যা কিনা আমাদের যুবসম্প্রদায়কে পঙ্গু বা কপটতার দিকে নিয়ে গেছে। আমরা দেখেছি বিগত দিনে ধর্ষণ কেন্দ্রিক প্রচুর লেখালেখি- এবং ঢাবিসহ অন্যান্য দুচারটি সংগঠনের ছেলেমেয়েরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছে টিএসসি, শাহবাগ, শহীদমিনারসহ প্রেসক্লাবে। সর্বস্তরের মানুষের দৃশ্যমান সমর্থন এবং উপস্থিতির অভাবে সেসব প্রতিবাদ বাতাসে মিশে গেছে। আমি মনে করি ফেসবুকিয় প্রতিবাদ একপ্রকার- দায়সারা কপটতা।

ঢাকা শহরে যত ছাত্রী এবং ছাত্রীদের মা-খালারা আছেন, তাঁরা একযোগে একদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্লোগান দিন- ‘‘ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাই’’ এবং প্রমাণ করুন আপনারা ধর্ষণের বিনাশ চান।

রাজপথ না কাঁপালে রাষ্ট্রের ঘুম ভাঙে না- ইতিহাস সাক্ষী।

সমাজ কোন পথে ধাবিত হচ্ছে, কী ধরনের কুপ্রভাব পড়ছে এগুলো আমলে নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের উচিৎ ধর্ষণের মতো দুরারোগ্য অপরাধ বিনাশের লক্ষ্যে, নারী শিশুদের নিরাপত্তা দেবে এবং মানুষের দাবিকৃত ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করা জরুরি।

  • মাহমুদুল হাসান মাছুম: কবি

আপনার মন্তব্য

আলোচিত