COVID-19
CORONAVIRUS
OUTBREAK

Bangladesh

Worldwide

56

Confirmed Cases,
Bangladesh

06

Deaths in
Bangladesh

25

Total
Recovered

1,007,793

Worldwide
Cases

52,611

Deaths
Worldwide

210,590

Total
Recovered

Source : IEDCR

Source : worldometers.info

বইমেলায় শামস শামীমের ‘১৯৭১ চোরেরগাঁওয়ের অশ্রুত আখ্যান’

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-২৭ ০১:৫৬:২০

 আপডেট: ২০১৮-০২-২৭ ১১:৩৭:২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত কামারগাঁও, নারকিলা, ছিকাডুপি, বল্লভপুর, উজানগাঁও ও জাহানপুরের লোকেরা বংশ পরম্পরায় চোর হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালে দিরাই-শাল্লার হিন্দুরা ধনসম্পদ ফেলে শরণার্থী হয়েছিলেন। এই সুযোগে ফেলে যাওয়া সম্পদ চুরি করে নিজেদের ভাগ্য বদল করেননি চোরেরা, পাহারা দিয়েছেন হিন্দুদের ঘরবাড়ি। বর্ষার উত্তাল হাওরে নৌকা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নৌকার মাঝির কাজ করেছেন। চোরের গাঁওয়ের তরুণদের বেশিরভাগই ছিলেন দাসপার্টির সাহসী বাইছাল। এই সময়ে চোরের গাঁওগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি হয়ে ওঠেছিল।

মুক্তিমাঝিরা স্মৃতিচারণে এখনও গ্রামগুলোকে বলেন : মুক্তিঘাঁটি। সম্মুখযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন গ্রামের মাঝিরা, আহত হয়েছেন অনেকে। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ায় তিনটি গ্রামে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং দুটি গ্রাম থেকে অন্তত ৩০ জন নারীকে ধরে নিয়ে ক্যাম্পে নির্যাতন করা হয়েছে। স্বাধীনতার পরপরই বীরাঙ্গনাদের বিয়ে করে ঘরে তুলেন মুক্তিমাঝিরা, জন্ম নেয় যুদ্ধশিশু। সেই যুদ্ধ শিশুকে কাবিনে ‘পিতা অজ্ঞাত লিখে’ বিয়ে করেন চোরের গাঁওয়েরই কোনও এক সাহসী তরুণ।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চাপাপড়া এই আখ্যান এতদিন সবার অজানা ছিল। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর ‘১৯৭১: চোরের গাঁওয়ের অশ্রুত আখ্যান’ রচিত হলো। একাত্তরের এই মর্মন্তুদ ধুলোপড়া আখ্যান রচনা করেছেন কবি ও সাংবাদিক শামস শামীম। এতে উঠে এসেছে তাদের অবহেলা ও বঞ্চনার কথাসহ মুক্তিযোদ্ধা-বীরাঙ্গনার স্বীকৃতির জন্য লড়াইয়ের বিষয়ও। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য এখন লড়াই করছেন যুদ্ধে শহিদ, যোদ্ধাহত ও বীরাঙ্গনাদের পরিবারের লোকজন। তাঁরা কি শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতি পাবেন? বইটিতে এসব বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

২০১৮ সালের একুশে বইমেলায় গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে নাগরী প্রকাশন। ৩০৮ নং স্টলে পাওয়া যাচ্ছে ঐতিহাসিক এই বইটি। পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে কেনা বেচার প্রতিষ্ঠার রকমারিতেও। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। দাম ২০০ টাকা।

এদিকে বইটি মেলায় যাওয়ার পরই ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু পাঠকের দৃষ্টি কাড়ে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশ বিদেশের লেখকরা বইটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখালেখি করছেন।

আপনার মন্তব্য