COVID-19
CORONAVIRUS
OUTBREAK

Bangladesh

Worldwide

88

Confirmed Cases

09

Deaths

33

Recovered

1,204,055

Cases

64,791

Deaths

247,340

Recovered

Source : IEDCR

Source : worldometers.info

৪৫ বছর পর আসছে শেখ ফজলুল হক মনির গল্পগ্রন্থ ‘গীতারায়’

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২২ ১৩:২৩:৩৩

 আপডেট: ২০২০-০২-২২ ১৩:২৮:৩০

হৃদয় দাশ শুভ:

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি ও স্বাধিকার আন্দোলনের নক্ষত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলনের সৃজনশীল যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স তথা মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান কমান্ডার শেখ ফজলুল হক মনির গল্পগ্রন্থ ‘গীতারায়’ পুনঃপ্রকাশ হচ্ছে। বইটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭২ সালে। এরপর ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় প্রকাশের ৪৫ বছর পর তৃতীয়বারের মত প্রকাশিত হচ্ছে।

শেখ ফজলুল হক মনির বইটির তৃতীয় মুদ্রণ করছে নওরোজ কিতাবিস্তান। প্রচ্ছদ করেছেন চারু পিন্টু।

‘গীতারায়’ গল্পগ্রন্থে মোট ৬টি গল্প রয়েছে। গল্পগুলোর শিরোনাম হচ্ছে- বৃত্ত, ব্যর্থ, জাত, অবাঞ্ছিতা, হোঁচট এবং গীতারায়।

শেখ ফজলুল হক মনি কেবল রাজনীতি নয়, সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায়ও অবদান রাখেন। তার লেখা ‘অবাঞ্ছিতা’ উপন্যাস পাঠক সমাদৃত। এছাড়া তিনি দৈনিক বাংলার বাণী, ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস ও বিনোদন ম্যাগাজিন ‘সিনেমা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৩৯ সালের ৪ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় ঐতিহাসিক শেখ পরিবারে জন্ম নেন শেখ ফজলুল হক মনি। তার বাবা মরহুম শেখ নূরুল হক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্নীপতি। মা শেখ আছিয়া বেগম বঙ্গবন্ধুর বড় বোন।

শেখ ফজলুল হক মনি ঢাকা নব কুমার ইন্সটিটিউট থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর ১৯৫৮ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৬০ সালে তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই মনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ষাটের দশকে সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি সাহসী নেতৃত্ব দেন। ১৯৬০-১৯৬৩ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ছয় মাস কারাভোগ করেন। ১৯৬৪ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের কাছ থেকে সনদ নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং সরকারের গণবিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে সমাবর্তন বর্জন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ডিগ্রি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মামলায় জিতে ডিগ্রি ফিরে পান। ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন এবং দেড় বছর কারাভোগ করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ও কৃতিত্ব ১৯৬৬ সালের ৭ জুনে ৬ দফার পক্ষে হরতাল সফল করে তোলা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের তিনি তখন সংগঠিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কারাগারে। ওই হরতাল সফল না হলে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম পিছিয়ে যেত। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে এ অগ্রণী ভূমিকা পালনের দায়ে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয় এবং তিনি কারারুদ্ধ হন। এসময় বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

দেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের জন্য গোটা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রাখেন শেখ ফজলুল হক মনি। তিনি ছিলেন, মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধের পর গঠিত যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালে ১১ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে যুব রাজনীতির সূচনা করেন। দুই বছরের মাথায় কংগ্রেসে শেখ মনি যুবলীগের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শেখ ফজলুল হক মনি ব্যক্তি জীবনে দুই ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন। শেখ ফজলুল হক মনির এক পুত্র অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান, এবং অপর পুত্র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী বেগম আরজু মনি ঘাতকের বুলেট মৃত্যুবরণ করেন।

আপনার মন্তব্য