COVID-19
CORONAVIRUS
OUTBREAK

Bangladesh

Worldwide

88

Confirmed Cases

09

Deaths

33

Recovered

1,204,055

Cases

64,791

Deaths

247,340

Recovered

Source : IEDCR

Source : worldometers.info

বইমেলায় কিছু লেখক মিডিয়া খুঁজে খুঁজে ইন্টারভিউ দেয়

বইমেলার ডায়েরি ২২-২৩

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৫ ১১:২৫:০৫

 আপডেট: ২০২০-০২-২৫ ১১:৩৩:২৮

রেজা ঘটক:

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ক্রমশ শেষের দিকে। আর পাঁচদিন পরেই এই প্রাণের মিলনমেলা ভাঙবে। প্রতিদিন নতুন বইয়ের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বন্ধুদের সাথে দেখা হচ্ছে। নতুন অনেকে বন্ধু হচ্ছেন। সবার সাথে আড্ডা দিয়ে বেশ সুন্দর সময় কাটছে। ফেব্রুয়ারি মাসের এই স্মৃতিটুকু আমরা আগামী বছর পর্যন্ত অন্তরে লালন করবো।

বইমেলায় শেষের দিকে এসে প্রকাশ পাচ্ছে অনেক ভালো ভালো বই। বাতিঘর থেকে প্রকাশ পেলো জি এইচ হাবীব-এর অনুবাদে উমবের্তো একো'র ''গোলাপের নাম''। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী সোমনাথ ঘোষ। বইটির অলংকরণ করেছেন নীল প্যাকার। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৩৩৪ টাকা। কিন্তু বইমেলায় বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকায়।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশ পেয়েছে কথাশিল্পী মঈনুল আহসান সাবেরের ''উপন্যাস ত্রয়ী''। 'মানুষ যেখানে যায় না', 'আবদুল জলিল যে কারণে মারা গেল' এবং 'এই দেখা যায় বাংলাদেশ' এই তিনটি উপন্যাস পাওয়া যাচ্ছে একমলাটে। বইটির মূল্য ৫৫০ টাকা। একই প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পেয়েছে শিশুদের জন্য একটি চমৎকার গল্পের বই। কামরুল হাসান শায়কের গল্পের বইটির নাম 'মৎস্যকুমারী ও এক আশ্চর্য নগরী'। বইটির প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন শিল্পী গৌতম ঘোষ। বইটির মূল্য ১৫০ টাকা।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশ পেয়েছে কথাশিল্পী মোজাফফর হোসেনের প্রথম উপন্যাস ‘তিমিরযাত্রা’। এই বইটিরও প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী গৌতম ঘোষ। এছাড়া একই প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পেয়েছে কথাশিল্পী স্বকৃত নোমানের চতুর্থ গল্পের বই '‘বানিয়াশান্তার মেয়ে’। মঙ্গোলিয়ান কবি হাদা সেন্দো’র অনুবাদ কবিতার বই “চাঁদের আলোয় যাযাবর গান” প্রকাশ করেছে স্বদেশ শৈলী। বইটি ভাষান্তর করেছেন অনন্ত উজ্জ্বল। বইটি পাওয়া যাবে বাতিঘরে ৪৪৩-৪৪৫ নং স্টলে। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী মামুন হোসাইন।

বইমেলায় বাথরুমগুলো কয়েকদিন ধরে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয় না। বাথরুমের কাছাকাছি যাদের স্টল, তারা অসহ্য দুর্গন্ধের ভেতরেই স্টলে বসতে বাধ্য হচ্ছেন। আমাদের দেখলে তারা নালিশ করছেন। এমনিতে উদ্যানের একেবারে শেষ মাথায় যাদের স্টল পরেছে, তাদের বইমেলায় থাকা না থাকা প্রায় একই কথা। তাদের ওদিকে মানুষজন খুব একটা যায় না। তার মধ্যে বাথরুমের গন্ধে তারা বোনাস ভুক্তভোগী। আশা করি বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ বইমেলার বাকি দিনগুলো বাথরুম পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নজরদারি করবে।

আগে মিডিয়া বইয়ের লেখককে খুঁজে বের করতো। তখন লেখকদের একটা পারসোনালিটি ছিল। আর এখন দেখি উল্টো কারবার। স্বয়ং লেখকরা মিডিয়া খুঁজে খুঁজে ইন্টারভিউ দেয়। এ কোন জামানায় আমরা বসত করছি। তাছাড়া মিডিয়ার যারা বইমেলা কভার করছেন, তারা কেউ প্রকৃত লেখকদের খুব একটা চেনেন না। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো- এবছর যিনি টেলিভিশনে বইমেলা কভার করছেন আগামী বছর তিনিই লেখক হিসেবে বইমেলায় ইন্টারভিউ দিয়ে বেড়াবেন।

ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা অনেক প্রকাশনা থেকে এরকম হাজার হাজার বই প্রকাশ পাচ্ছে। এরা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধবদের দিয়ে নিজেদের বইয়ের প্রকাশনা উৎসব করছেন। মিষ্টি বিতরণ করছেন। এলাহি সব ব্যাপার স্যাপার। বইয়ের কনটেন্ট খুঁজতে গেলে দেখবেন সব অখাদ্য দিয়ে ভরপুর। কোনটা যে গল্প, কোনটা যে উপন্যাস আর কোনটা যে প্রবন্ধ, তা আবিস্কার করতে রীতিমত গবেষণা করতে হবে।

মৌসুমি এসব লেখকদের ভিড়ে বইমেলা এখন উত্তাল। আবার লেখক যদি সুন্দরী কোনো ললনা হন, তাহলে তাদের পেছনে দেশের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের রয়েছে বিশাল লাইন। এরাই এদের সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছেন নানান কিসুর বিনিময়ে। লেখা হোক বা না হোক, এরা প্রশংসায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন। তাই নিয়ে এসব মৌসুমি লেখকদের গর্ব বেশ দেখার মতই!

একুশে ফেব্রুয়ারিতে এবছর বইমেলার মাঠে 'লেখক বলছি' মঞ্চের সামনের খোলা অংশে নামাজ পড়েছেন একদল অতিউৎসাহী নামাজি। বইমেলা মাঠে নামাজ পড়ার জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গায় মসজিদ থাকার পরেও এই যে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে খোলা মাঠে নামাজ পড়া হচ্ছে, এটা অনেকটা বইমেলা দখলের মত একটা ব্যাপার। বাংলা একাডেমি এসব বিষয় এলাউ করছে, কারণ একাডেমি এদের কাছে জিম্মি। আগামীতে এটি চরম আকার ধারণ করলে কারো কিচ্ছু করার নাই।

এমনিতে অমর একুশে বইমেলায় এখন আলোচিত কোনো বই প্রকাশ পেলেই সেটিতে পুলিশ এবং হুজুরদের ছাড়পত্র না থাকলে বাংলা একাডেমি সেই বইটি বাতিল করছে। পাশাপাশি সেই প্রকাশনাকে দিচ্ছে শাস্তি। সেখানে বইমেলার মাঠে নামাজ পড়ার ব্যাপারটি বাংলা একাডেমি কীভাবে নিয়েছে আমরা জানি না। তবে এটি বইমেলার সৌন্দর্যকে রীতিমত নষ্ট করছে।

বইমেলায় আসুন। ভালো বইয়ের খবর আমাদের জানান। প্রিয়জনকে বই উপহার দিন। সবাইকে একুশের শুভেচ্ছা।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বইমেলা থেকে ফিরে।
       রেজা ঘটক: নির্মাতা ও কথাসাহিত্যিক।

আপনার মন্তব্য