সময় ও শূন্যতার গল্পে শুদ্ধতার দিনগুলো

 প্রকাশিত: ২০২৪-০৪-০৭ ১২:০২:৩৮

 আপডেট: ২০২৪-০৪-০৭ ১২:০৩:৪২

মাসুদ পারভেজ:

সময় ও শূন্যতার গল্পে শুদ্ধতার দিনগুলো


মামা রোজ বলে যায় আজ নয়তো কাল
আমি আশায় বুক বাঁধতাম, ভাবতাম শহরের খুশবু আসতেছে
তারপর কেটে যেতো আরও কয়েকটা খুশি খুশি দিন
তারপর, মামা আসতো পরিযায়ী পাখির মতো
যাত্রাবিরতির মতো মাপা সময় মাথায় নিয়ে বলতো;
তোর বড় খালার বাসায় যেতে হবে রে...


কোনরকমে সুন্নতি ইফতারের পরে মামার বড্ড তাড়াহুড়ো
এই বেরোচ্ছে আবার পরক্ষণে থমকে যাচ্ছে
আব্বু অভিজ্ঞজনের ঝাঁপি থেকে বলেন-দিনকাল ভালো নয়, চলতি পথে ডাকাত পড়তে পারে
তারপর নিমরাজি মামার অবস্থা আমরা আড়াল থেকে উপলব্ধি করতে পারতাম
এদিকে আমার চোখেমুখের ঘুম শীতনিদ্রায়, আড় ও ভয় জয় করে
কোনরকমে এসে মামার পা ছুঁয়ে যেতাম...তারপর আমি অচিনপাখি
অন্যদিকে আব্বুর সাথে মামার তখন পার্লামেন্টের আলাপ
আলাপের সয়লাবে আমি নিত্য ঘুরেফিরে আসি
ক্লাসের ফার্স্ট-বয় হলেও কথা হয়, কথা বেরিয়ে আসে
তখনই আম্মু এসে বলতো;
ওর শরীরে ভিটামিনের অভাব আছে। একটা ভালো ডাক্তার দেখাতে হবে।
তারপর আব্বু চুপচাপ আর মামা বলতো-
বার্ষিক পরীক্ষার পরে শহরে আসিস।


বড়বেলায় নয়, ছোটকালেই বুঝতাম আব্বুর সঙ্গীন অবস্থা
নিয়তি তাঁর প্রখর ব্যক্তিত্ব ছাড়া বাকিসব কেড়ে নিয়েছিল
কিন্তু সেই ব্যক্তিত্ব নিয়েই আব্বু লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন
আজ বহুকাল যাবত আব্বু নেই কিন্তু দিনগুলো অমলিন।


এখন আমাদের অবস্থা চলনসই কিন্তু কোথায় যেন প্রকাণ্ড কিছু একটার অভাব
চারপাশে সময় ও শূন্যতার গল্পে কাটছে দিন, বিরামহীন
এভাবে মনে হয় অপেক্ষা পাকাপোক্ত হয়, হয়তোবা বাবাদের ওভাবে দিন যায়...
কালের বিবর্তনে আমিও এখন বাবা; বাবাদের বাবাত্বের সংগ্রাম বুঝতে পারছি-
এই ইত্যবসরে চোখ বুঝলেই বাবার মলিনমুখ দমকা হাওয়ায় ভেসে যায়...

আপনার মন্তব্য