প্রাণের বর্ণমালা : আজকের বর্ণ ‘স-হ’

 প্রকাশিত: ২০১৬-০২-২৯ ১০:৪৫:২৯

কালের লিখন:


সকাল বেলার প্রথম রোদের সাথে,
সচিত্র তোমার ছবি পেলাম আঁখিপাতে।
সংকল্প দৃঢ় হলো, আমাতেই স্থির তুমি-
সংকোচিত তৃষ্ণার জল এখনো খুঁজে ভ‚মি।

সংজ্ঞা জানো? ভালো মন্দ, অলীক দন্ধ-
সজন কে? ক‚জন কে? ভ্রান্ত কোথায় ছন্দ?
সংক্রমিত ব্যাধির মতো তোমার আগমন-
সংকেত পাই- অকালে এবার হারিয়ে যাবে মন।

সঙ্গী করে রাতের আঁধার এই সকালের লোভে,
সংকলিত করেছি দেনা, ভগ্ন মনের ক্ষোভে।
সংখ্যা গুনি মানুষ কোথায়? জীবন ঘূর্ণিপাকে-
সংবাদ শুধু নির্দিষ্ট সময়ের ছবিই আঁকে।

সত্য একটা কথা বলতেও, দু'বার ভাবতে হয়।
সঙ্গতিহীন ভালোবাসা, এখনো অমর নয়।


হঠাৎ করেই থেমে যায় সব, থামাই নীতি-
হইচই ভুলে নীরবে ঘুমায়, আড়ালে স্মৃতি।
হতাশা আসে বাতাসে ভেসে, হারায় ক‚ল-
হতভাগ্য ভ্রমর জানেনা, কখন ফুটে ফুল।

হট্টগোলে ভুল ভেঙ্গে যায়, সামনে বাস্তবতা-
হতচ্ছাড়া পোড়া মনে, অকাল নীরবতা।
হতভম্ব বসে আছি- দৃষ্টিমগ্ন উদাস আঁখি,
হত্যা করে সকল ইচ্ছে, এখন শুধু আকাশ আঁকি।

হস্তগত উচ্ছ্বাসগুলো, মুঠো গলে বেরিয়ে যায়-
হতচ্ছাড়া সময় তখনো, অসময়ের গান গায়।
হন্তদন্ত ছুটে চলি, অসময়ের দশ ফোঁড় দেই-
হতোদ্যম ফিরে আসলেও, সেখানে কিচ্ছুটি নেই।

হস্তলিপি জমা রেখেছি অচেনা মেঘের কাছে-
হন্যে হয়ে সেদিকেই যাই, যেখানে মানুষ আছে।

প্রাণের বর্ণমালা সম্পর্কে-
প্রাণের বর্ণমালা নিয়ে লেখা মূলত বাংলা বর্ণের খেলা। প্রতিটি বর্ণের প্রতি আলাদা মমত্ববোধ লালন করেই কালের লিখন কর্তৃক রচিত হয়েছে এ ধারাবাহিক লেখাগুলো।

মূল বর্ণকে উপজীব্য করে এক একটি কবিতার শরীর গড়ে উঠেছে। ১৪ লাইনের প্রতিটি কবিতার প্রতিটি লাইন শুরু হয়েছে একটি নির্দিষ্ট বর্ণকে কেন্দ্র করে। প্রতিটি লাইনের শুরুর শব্দ গঠিত হয়েছে মূলবর্ণকে কেন্দ্র করে।

কিছু কবিতা অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা, কিছু কবিতায় কবির নিজস্ব নির্মাণশৈলী বিদ্যমান। প্রতিটি কবিতায় আ কার, ই কার, ঈ কার, ও কার সহ সকল কার বর্জন করা হয়েছে মূলবর্ণকে প্রাধান্য দিয়ে। এজন্য সৃষ্টি হয়েছে- মূলবর্ণ কেন্দ্রিক শব্দসংকট এবং কিছু অপ্রচলিত শব্দের বাধ্যতামূলক ব্যাবহার।

কবিতাগুলো শিশুপাঠ্য হিসেবে লেখা হয়নি। সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বর্ণপ্রেমে উজ্জীবিত করতেই এই প্রয়াস। তাছাড়া শব্দপ্রেমী কবির অক্ষরের দায়শোধও আছে কিছুটা। শুধুমাত্র বর্ণের দিকে দৃষ্টি না দিলেও প্রতিটি কবিতা আলাদা আলাদা সময়, ঘটনা, ভাব, বিষয় আর অনুভব ধারণ করেছে, যা পাঠকের মনে কাব্যিক দোলা দিতে সক্ষম বলে কবির আশাবাদ।

শব্দের আদিতে বসে শব্দ গঠন করতে না পারায়, কিছু কিছু বর্ণ বাদ দিতে হয়েছে। যেমন- ঋ ঙ, ঞ ইত্যাদি। শব্দের আদিতে বসে অর্থপূর্ণ শব্দ গঠনে সক্ষম এরকম ৩৮ টা বর্ণ দিয়ে ৩৮ টা কবিতার সমন্বয়ে রচিত হয়েছে প্রাণের বর্ণমালার লেখার ধারাক্রম। সবগুলো কবিতার জন্মকাল সেপ্টেম্বর- ২০১৫।

১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, প্রাণের বর্ণমালা লেখার ধারাক্রমের সর্বমোট ৩৮টি বর্ণের সবগুলোই প্রকাশিত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য