আফসারা মীম-এর ২টি কবিতা

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৩-১৭ ১১:৫০:২২

আফসারা মীম:

একদল পুরুষ ও একজন কবিতার গল্প
গতকাল রাতে একটি কবিতার মৃত্যু হয়েছে।
জলজ্যান্ত কবিতার অকাল মৃত্যুতে তার আশাহত প্রেমিকেরা শোকসভার আয়োজন করেছে।
শোকাহত সেইসব পুরুষেরা কালো ব্যাজ ধারণ করে বিড়বিড় করে পাঠ করছে অবৈধ সুরা-
যার প্রতিটি লাইনে রয়েছে অসভ্যতা, মিথ্যা, শোক ও নষ্ট স্মৃতিচারণ!

কবিতাটি একজন পরিপূর্ণ যৌবনবতী নারী ছিলো।
একহাতে তার পাহাড় সমান ক্ষমতা ছিলো আর একহাতে ছিলো সূর্যের তেজ।
দুই চোখে যার ছিলো সমুদ্রের বিশালতা।
আরো ছিলো দুই বক্ষে চন্দ্রগ্রহণের ও জ্যোৎস্নার দুঃখবিলাস।

কবিতা জেনে গেছিলো পুরুষ আধিপত্য বিস্তার করলেও বিছানায় সঙ্গমরত প্রেমিকার কাছে কতটা অসহায়।
সে বলে গিয়েছিলো নারীর মন না বোঝার ব্যর্থতা তারা কিভাবে ঢেকে রাখে।
সে অনুধাবন করা শিখে গিয়েছিলো পাপ পুণ্য কোনো সীমারেখা মানে না!
সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সে উচ্চকণ্ঠে বলেছিলো 'পৃথিবী কাউকে বঞ্চিত করেনা; বঞ্চিত করে সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার ও প্রেমিকেরা'!

গতরাতে যে কবিতার মৃত্যু হয়েছিলো তারও দু'লাইন বাকি ছিলো শেষ হতে।
কবিতায় ভূমিকা ছিলো সুন্দর একটা,
কবিতার পথচলাটাই ছিলো পুরো গড়ন,
তার আত্মত্যাগ, প্রেম ও জ্ঞান অর্জন ছিলো অলংকার বিশেষ,
প্রণয়, অভিসার ও সঙ্গমের সুখ ছিলো তার দাড়ি, কমা, কোলন, সেমিকোলন।
লজ্জা ও ঘৃণা ছিলো কবিতাটির ছন্দ।

মৃত্যুকে বরণ করে সে পরিপূর্ণ কবিতারূপ ধারণ করলো।
মৃত্যুকে সখ্য করে নিয়ে উপসংহার টেনেছিলো কবিতা শেষরাতে।


কুমারী মাতা ও একজন বাংলাদেশ
আমার এক স্তনে রয়েছে দুগ্ধের সমুদ্রসম উল্লাস,
আরেক স্তনে রক্তের নদীর উপচে পড়া ঢেউ!

মাতৃত্বের রস গন্ধ দিয়ে আমাকে জন্ম যেমন দিয়েছে পৃথিবী,
তেমনি শিখিয়েছে রং পাল্টানোর তেত্রিশ হাজার নিয়ম।

আমাকে একটি ঈশ্বর দাও, আমি যাকে জন্ম দিয়ে মরিয়ম হবো,
আমাকে একটি সন্তান দাও যার জন্মে আমার উপাধি হবে মেরী।
আমাকে অসংখ্য ঈশ্বর দাও, যাদের পদচারণায় ধন্য হবে আমার তাচ্ছিল্য ভরা জীবন অথবা গৌরবের স্মৃতিকাতরতা।

আমি বরাবর দুটো সন্তান প্রসব করি, যাদের চাওয়া পাওয়া থাকে ভিন্ন ভিন্ন,
সুতরাং আমার তাদের ইচ্ছের দিকে নজর দিতে হয়,
দিতে হয় দুই ঈশ্বর সন্তানদের সমান আরাধনা!

আমার সন্তানদের আমি বুকে চেপে এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার পাঁচশ সত্তর বর্গমাইল পথ পাড়ি দিয়েছি।
বিনিময়ে কিছু চাইনি, তবে কিছু দিয়েছি!
একজন সর্বদা আমাকে ছিন্ন করে রক্ত চুষে খেয়ে লাথি দিয়ে হেসে বলেছে ‘আমি ঈশ্বর’।
আরেকজন মুখে দুধের গন্ধ নিয়ে মাথা নত করে বলেছে 'মাগো আমি বাঙালি, আমি মানুষ"!

আমি মরিয়ম না, আমি মেরী না ; আমি বাংলাদেশ নামের কুমারী সে মেয়ে!

আপনার মন্তব্য